মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের সামনে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, এস আলমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জোরালো

ঢাকার প্রাণকেন্দ্র মতিঝিল আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল দুটি ভিন্ন দাবির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে একদিকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের মানববন্ধন, অন্যদিকে একই স্থানে ভিন্ন ব্যানারে পাল্টা অবস্থান—দুই কর্মসূচিই সকাল থেকেই এলাকাটিকে সরগরম করে তোলে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে প্রথমে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা অবস্থান নেন রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত :contentReference[oaicite:0]{index=0} (Islami Bank Bangladesh PLC)-এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে। তারা চাকরি পুনর্বহালসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন করেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে তাদের অবস্থান কর্মসূচি চালান বলে জানা যায়।

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই একই স্থানে শুরু হয় আরেকটি কর্মসূচি, যেখানে অংশ নেয় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ। তাদের ব্যানার, স্লোগান ও বক্তব্যে উঠে আসে শিল্পগোষ্ঠী :contentReference[oaicite:1]{index=1} (S Alam Group)-এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের দাবি। কর্মসূচিতে ‘ব্যাংক দখল বন্ধ করো’, ‘কালো আইন বাতিল করো’ এবং ‘এস আলম নো মোর’সহ নানা স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

সমাবেশে সংগঠনটির সভাপতি নুরুন নবী একাধিক দাবি তুলে ধরে পাঁচ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তাদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে—এস আলমসহ যেসব ব্যক্তিকে তারা ‘ব্যাংক লুটের অভিযুক্ত’ বলে উল্লেখ করছেন, তাদের গ্রেপ্তার, সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা। একই সঙ্গে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের ১৮/ক ধারা বাতিলেরও দাবি জানানো হয়, যেটিকে তারা বিতর্কিত বলে উল্লেখ করেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ব্যাংক খাতে ‘অবৈধ নিয়ন্ত্রণ’ ও ‘দখলদারিত্বের চেষ্টা’ চলছে, যা অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো গোষ্ঠীকে ব্যাংক পরিচালনায় অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজন হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করা হবে।

এছাড়া কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১৫ দিনের জন্য ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে লিফলেট বিতরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে দাবি তুলে ধরা, তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ ও সেমিনার আয়োজন।

দিনভর এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে মতিঝিল এলাকায় সাধারণ মানুষের ভিড় ও যান চলাচলেও কিছুটা প্রভাব পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল বলে জানা গেছে।