আসামিপক্ষের শুনানির জন্য আদালত আগামী ২৩ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন, যেখানে বহুল আলোচিত এই মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। এর আগে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে, যা আদালত কক্ষেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান শুনানিতে দাবি করেন, ছাত্র-জনতাকে হ’\ত্যা করার পুরো পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন শামীম ওসমান। শুধু পরিকল্পনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি নিজেও অস্ত্র হাতে নিয়ে গু’\লি চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রসিকিউটর আরও জানান, শামীম ওসমানের একটি অডিও ক্লিপ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অনুমতি নিয়েই শামীম ওসমান তার নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী—যাদের মধ্যে এ মামলার ১১ জন আসামিও রয়েছেন—নিয়ে নারায়ণগঞ্জে আন্দোলন দমনে সক্রিয় হন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রসিকিউটর বলেন, এই মামলায় ইতোমধ্যে ১৮টি ভিডিও ফুটেজ, অডিওসহ প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ আদালতে দাখিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ৬১ জন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর তালিকাও জমা দেওয়া হয়েছে। এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, প্রথম অভিযোগ অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাড়া, ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ড ও আশপাশের এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল এবং ছয় বছরের শিশু রিয়া গোপসহ মোট ছয়জনকে হ’\ত্যা করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ২১ জুলাই ফতুল্লা থানার ভূইগড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হ’\ত্যা করা হয়।
তৃতীয় অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হ’\ত্যা করা হয়।
এই তিনটি পৃথক ঘটনার ভিত্তিতে মোট ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে গত ১৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। একই দিন আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
