সারাদেশে আজ থেকে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরার সঙ্গে সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগ সচল রাখার নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে সোমবার জরুরি চিঠি পাঠিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (Dhaka Education Board) দেশের সব কেন্দ্রসচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বহু পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি মনিটরিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে কেন্দ্রগুলোর ডিভিআর বা এনভিআর সিস্টেমের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়।
পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সময়ে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (Madrasah Education Board) এর অধীনে দাখিল পর্যায়ে কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (Technical Education Board) এর অধীনে এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল পর্যায়ে বাংলা-২ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সারাদেশে ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সাড়ে ১৮ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি (Inter-Education Board Coordination Committee) জানিয়েছে, মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ বোর্ডে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা বোর্ডে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সারাদেশে মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা অসদুপায় কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, শিক্ষক ও পরীক্ষার্থী উভয়কেই নিয়ম মেনে চলতে হবে। মাঠপর্যায়ে ভিজিল্যান্স টিমসহ সব ধরনের তদারকি ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে, যাতে একটি সুশৃঙ্খল ও নীতিনিষ্ঠ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করা যায়।

