ভারত–মিয়ানমার সীমান্তে মাঝারি ভূমিকম্প, ঢাকাসহ দেশে মৃদু কম্পন অনুভূত

ভারত–মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আঘাত হানা মাঝারি মাত্রার এক ভূমিকম্পের কম্পন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুভূত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোর ৬টা ২৯ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়, যা ঘুমন্ত অনেক মানুষকে আচমকা জাগিয়ে তোলে।

আন্তর্জাতিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থা আর্থকোয়েক ট্র্যাক (Earthquake Track)-এর তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ১ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ২৯ মিনিটে আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমার (Myanmar)-এর সাগাইং অঞ্চলের হোমালিন এলাকায়, যা ভারতের মণিপুর সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।

ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার গভীরে। এই গভীরতা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ভূকম্পনের শক্তি উপরের স্তরে পৌঁছাতে গিয়ে কিছুটা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। ফলে মাঝারি মাত্রার হওয়া সত্ত্বেও ভূপৃষ্ঠে এর প্রভাব ছিল তুলনামূলক কম, এবং দেশে মৃদু কম্পন হিসেবেই তা অনুভূত হয়েছে।

অন্যদিকে, ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (National Center for Seismology) জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোররাতে মণিপুর (Manipur) অঞ্চলেও ৫.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভারতীয় সময় ভোর ৫টা ৫৯ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে এই কম্পন অনুভূত হয় এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল কামজং এলাকায়।

এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৬২ কিলোমিটার গভীরে, যা মাঝারি গভীরতার ভূকম্পন হিসেবে বিবেচিত হয়।

এদিকে, ইউএসজিএস (USGS) বা যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০.৬ কিলোমিটার গভীরে, যা এই কম্পনের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম অনুভূত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।