‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্র ঘুরে সন্তুষ্ট শিক্ষামন্ত্রী, প্রশ্ন ফাঁস রোধে কঠোর প্রস্তুতির বার্তা

ঢাকা বোর্ডের অধীনে থাকা পাঁচটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করে সামগ্রিক পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন (Ehsanul Haque Milon)।

পরিদর্শন করা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ছিল মানিকগঞ্জের সিংগাইরের জয়মন্টপ উচ্চ বিদ্যালয়, সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়, সাভারের তেঁতুলঝোরা উচ্চ বিদ্যালয়, আমিনবাজারের মীরপুর মফিদ-ই-আম স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মিরপুরের মডেল একাডেমি। এসব কেন্দ্রে গিয়ে তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পরীক্ষার কক্ষগুলোর কার্যক্রম দেখেন।

পরীক্ষা শেষে দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (International Mother Language Institute)-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি জানান, কেন্দ্রগুলোর পরিবেশ ছিল অত্যন্ত সন্তোষজনক। স্কুল কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সম্পৃক্ততায় পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দেশের বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গেও যোগাযোগ করে একই ধরনের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন বলে জানান মন্ত্রী। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং প্রশ্ন ফাঁসের কোনো সম্ভাবনাও নেই বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন।

এবারই প্রথমবারের মতো এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রতিটি কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি কেন্দ্র সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন, সব সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করতে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অভিযোগ এলে তা যাচাই করা যায়। নিজের পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, হেড এক্সামিনাররা নিজ কক্ষ থেকেই পুরো পরীক্ষাকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করছেন, যা ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন, ইউএনও, পুলিশ—সবাই সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল। শুধু প্রশাসন নয়, সামাজিক কমিউনিটি এবং অভিভাবকরাও সমানভাবে সচেতন ছিলেন। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে তিনি ‘শতভাগ সহযোগিতা’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা প্রকাশ করেন।

প্রশ্ন ফাঁসের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, সাইবার মাধ্যমে কেউ এ ধরনের অপচেষ্টা চালালে তা মোকাবিলায় পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য সাইবার ক্রাইম কর্তৃপক্ষের কাছে আগে থেকেই দেওয়া আছে, যাতে কোনো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপরও তিনি আস্থা প্রকাশ করেন।

পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমে যাওয়ার বিষয়েও মন্তব্য করেন তিনি। জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি প্রবণতা হিসেবে পরীক্ষার্থী কমেছে, যা করোনা-পরবর্তী সময় থেকে শুরু হয়েছে। তবে তিনি আশাবাদী, পরিবেশ স্বাভাবিক হলে শিক্ষার্থীরা আবার লেখাপড়ায় মনোযোগী হবে এবং ভবিষ্যতে অংশগ্রহণ বাড়বে।

যানজটের কারণে কেউ দেরিতে কেন্দ্রে পৌঁছালে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বানও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, দেরি হওয়া শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করাই সবার দায়িত্ব।

এদিকে নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজও শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিশেষজ্ঞদের এ বিষয়ে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এখন তিনি নিজেই সরাসরি তদারকি শুরু করেছেন। এই কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন প্রায় ১৮ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ১১টি বোর্ডের অধীনে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।