ফিলিস্তিনের পক্ষে মতামতধর্মী নিবন্ধ লেখার কারণে বহিষ্কার ও ভিসা বাতিলের হুমকির মুখে পড়েও পিছু হটেননি যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের তুর্কি ছাত্রী রুমেইসা ওজতুর্ক (Rümeysa Öztürk)। দীর্ঘ এক দশকের সংগ্রাম এবং জটিল আইনি লড়াই শেষে তিনি সফলভাবে নিজের পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মর্যাদা পুনরুদ্ধার করে চলতি মাসেই নিজ দেশ তুরস্কে ফিরে গেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের মার্চে। তখন টাফটস বিশ্ববিদ্যালয় (Tufts University)-এর পত্রিকা ‘টাফটস ডেইলি’-তে সহপাঠীদের সঙ্গে একটি মতামতধর্মী নিবন্ধ লেখেন ওজতুর্ক। ওই নিবন্ধে তারা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল (Israel)-এর কার্যক্রমকে ‘গণহ’\ত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে।
এর এক বছর পর ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসন ওই লেখার ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ তোলে এবং তার শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল করে। ২০২৫ সালের মার্চে ম্যাসাচুসেটস থেকে তাকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তারা আটক করে লুইজিয়ানার একটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এরপর শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই। অবশেষে চলতি মাসের শুরুতে ওজতুর্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। এর ফলে সরকার তার বিরুদ্ধে চলমান ইমিগ্রেশন মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয় এবং তার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মর্যাদা পুনর্বহাল করা হয়।
এর আগে একজন অভিবাসন বিচারক রায়ে বলেছিলেন, ওজতুর্ককে বহিষ্কারের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। যদিও পরবর্তীতে ওই বিচারককে বরখাস্ত করা হয়, তবে অন্য একটি মামলার নথিতে স্পষ্ট হয়—কলেজ পত্রিকার ওই নিবন্ধ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ভিসা বাতিলের মতো কোনো শক্ত প্রমাণ সরকারের হাতে ছিল না।
সব বাধা অতিক্রম করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের পর এক বিবৃতিতে ওজতুর্ক বলেন, ‘১৩ বছরের নিরলস অধ্যয়নের পর আমি গর্বিত যে পিএইচডি সম্পন্ন করেছি এবং নিজের সময়সূচি অনুযায়ী দেশে ফিরতে পেরেছি।’ তবে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পদক্ষেপের কারণে তার মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে, যা শুধু তার ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়—যেসব শিশু ও তরুণদের জন্য তিনি কাজ করতে চেয়েছিলেন, তাদের জন্যও ক্ষতির কারণ হয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ান (The Guardian)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে তুরস্কে পৌঁছেছেন। সেখানে শিশু অধ্যয়ন ও মানব উন্নয়ন বিষয়ে নিজের একাডেমিক ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
ম্যাসাচুসেটসের আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের আইন পরিচালক জেসি রসম্যান (Jesse Rossman) এই আইনি জয়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ড. ওজতুর্ক একজন গবেষক ও শিক্ষাবিদ। সরকারের বেআইনি পদক্ষেপ তাকে আলোচনায় নিয়ে আসে, কিন্তু তিনি সেই অবস্থানকে মানবাধিকার ও শিশুদের পক্ষে কথা বলার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।’


