সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরা কি সমান সুবিধা পান? বেতন-ভাতা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য সামনে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের নির্বাচন কার্যক্রম এখন পুরোদমে চলমান। বুধবার (২২ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের হিসাব অনুযায়ী এবার বিএনপি ৩৬টি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পাচ্ছেন একটি আসন।

এই নির্বাচন ঘিরেই নতুন করে উঠেছে একটি পুরনো প্রশ্ন—যেখানে ৩০০ আসনের সংসদ সদস্যরা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন, সেখানে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরা কি একই মর্যাদা ও সুবিধা ভোগ করেন?

জানা গেছে, এই বিষয়ে আইনে কোনো ভিন্নতা রাখা হয়নি। বাংলাদেশে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরা সরাসরি নির্বাচিতদের মতোই সমান বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।

এই সুবিধাগুলো নির্ধারিত হয়েছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস), ১৯৭৩’ বা ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’-এর আওতায়, যা বিভিন্ন সময়ে সংশোধিত হয়েছে—সর্বশেষ সংশোধন হয় ২০১৬ সালে।

আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য মাসিক ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান। পাশাপাশি ন্যাম ভবনে একটি ফ্ল্যাট, পরিবহন সুবিধা, উন্নত চিকিৎসা ও বিমা সুবিধা ভোগ করেন।

দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা লন্ড্রি ভাতা এবং ৬ হাজার টাকা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর জন্য বরাদ্দ থাকে। এছাড়া নির্দিষ্ট শর্তে একজন সংসদ সদস্য একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস শুল্ক ও ভ্যাট ছাড়াই আমদানি করতে পারেন এবং পাঁচ বছর পর একই সুবিধায় আরেকটি গাড়ি আনার সুযোগও থাকে। তবে এবারের সংসদে সরকার ও বিরোধীদলের সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, সংরক্ষিত ও সরাসরি নির্বাচিত এমপিদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই—তাদের মর্যাদা, যোগ্যতা ও সুযোগ-সুবিধা একেবারেই অভিন্ন।

সংসদীয় দায়িত্ব পালনের জন্য ভ্রমণেও রয়েছে বিশেষ সুবিধা। রেল, বিমান বা নৌপথে যাতায়াতে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড়গুণ ভাতা দেওয়া হয়। সড়কপথে নির্ধারিত হারে কিলোমিটারপ্রতি ভাতা দেওয়া হয়। বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা বা সমমূল্যের ট্রাভেল পাসও পান তারা।

এছাড়া সংসদ অধিবেশন বা কমিটির সভায় অংশ নিলে প্রতিদিন ৮০০ টাকা দৈনিক ভাতা ও ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা দেওয়া হয়। দায়িত্বসূত্রে বাইরে অবস্থান করলে ৭৫০ টাকা দৈনিক ভাতা এবং ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা নির্ধারিত রয়েছে।

চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রেও সংসদ সদস্যরা সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের সুযোগ পান। এর সঙ্গে মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা যুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ১০ লাখ টাকার বিমা সুবিধা রয়েছে, যা দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে কার্যকর হয়।

সংসদ সদস্যরা বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহার করতে পারেন, যা নির্ধারিত নিয়মে ব্যয় করতে হয়।

যোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে তাদের বাসভবনে সরকারি খরচে একটি টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয় এবং টেলিফোন ভাড়া ও কল খরচ বাবদ মাসিক ৭ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ থাকে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সংসদ সদস্যদের এসব ভাতা সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত। অর্থাৎ, এই সুবিধাগুলোর ওপর কোনো আয়কর প্রযোজ্য নয়। এছাড়া অতীতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সংসদ সদস্যদের প্লট বরাদ্দ দেওয়ার নজিরও রয়েছে।