পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল: একসঙ্গে ১৩ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

দেশের পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে হঠাৎ করেই বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। সরকারের সিদ্ধান্তে পুলিশের ১১ জন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এবং দুইজন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে প্রশাসনিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানামুখী আলোচনা ও প্রশ্ন। বুধবার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Home Affairs)।

প্রজ্ঞাপনে অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের নাম, পদ এবং কর্মস্থলের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন পুলিশ স্টাফ কলেজের ডিআইজি এ এফ এম মাসুম রব্বানী, রংপুর পিটিসির কমান্ড্যান্ট মহা. আশরাফুজ্জামান, অ্যান্টিটেররিজম ইউনিট (Anti-Terrorism Unit)-এ সংযুক্ত ডিআইজি এ জেড এম নাফিউল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম, নৌ পুলিশে সংযুক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ ফয়েজ, পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি মাহফুজুর রহমান, এপিবিএন সদর দপ্তরে সংযুক্ত ডিআইজি মুনিবুর রহমান, পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি শামীমা বেগম, শিল্পাঞ্চল পুলিশের ডিআইজি আবু কালাম ছিদ্দিক, পুলিশ টেলিকমের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম এবং এপিবিএনের (পার্বত্য জেলাসমূহ) ডিআইজি সালমা বেগম।

এছাড়া একই প্রজ্ঞাপনে আরও দুইজন অতিরিক্ত ডিআইজিকে অবসরে পাঠানোর কথা জানানো হয়। তারা হলেন—রংপুর রেঞ্জ কার্যালয়ে সংযুক্ত বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) ইকবাল হোসেন এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ (Tourist Police)-এর অতিরিক্ত ডিআইজি সাখাওয়াত হোসেন।

প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (Government Service Act, 2018)-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী ‘জনস্বার্থে’ সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এসব কর্মকর্তা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সব ধরনের সুবিধা ভোগ করবেন।

তবে হঠাৎ করে একযোগে এতসংখ্যক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক মহলে কৌতূহল ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে। প্রজ্ঞাপনে সিদ্ধান্তের পেছনের নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হয়েছে। ‘জনস্বার্থ’-এর সাধারণ ব্যাখ্যার আড়ালে কী রয়েছে, তা নিয়ে এখন নীরব পর্যবেক্ষণে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।