শরীয়তপুরে কাঁধে শ্যালো মেশিন নিয়েই পাম্পে কৃষক, ডিজেল সংগ্রহের ব্যতিক্রমী দৃশ্যে চাঞ্চল্য

শরীয়তপুরে সেচের জন্য ডিজেল সংগ্রহ করতে গিয়ে এক অভিনব দৃশ্যের জন্ম দিয়েছেন কয়েকজন কৃষক। খোলা বোতল বা ড্রামে তেল না পাওয়ার আশঙ্কায় তাঁরা সেচকাজে ব্যবহৃত ভারী শ্যালো মেশিন কাঁধে করেই হাজির হয়েছেন ফিলিং স্টেশনে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল।

বুধবার (২২ এপ্রিল) ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন কৃষক তাঁদের ব্যবহৃত শ্যালো মেশিন খুলে কাঁধে নিয়ে একটি ফিলিং স্টেশনে প্রবেশ করছেন। শুধু তাই নয়, সেখানে মেশিনে সরাসরি তেল ভরার প্রস্তুতিও নিতে দেখা যায় তাঁদের।

জানা গেছে, গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে শরীয়তপুর (Shariatpur) জেলার নড়িয়া উপজেলা (Naria Upazila)-র ডগ্রি বাজারে অবস্থিত মেসার্স চোকদার ফিলিং স্টেশন (Messrs Chokdar Filling Station)-এ তেল সংগ্রহের জন্য এভাবেই হাজির হন তাঁরা।

কৃষকদের ধারণা ছিল, বোতল বা ড্রামে তেল না দেওয়ার কারণে সরাসরি মেশিন নিয়ে গেলে হয়তো সহজেই ডিজেল পাওয়া যাবে। পরে তাঁরা সেখান থেকে তেল নিয়ে চলে যান।

ফিলিং স্টেশন সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া খোলা পাত্রে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হয় না। তবে কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি থাকলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তেল সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

স্টেশনটির পরিচালনাকারী আব্দুল জব্বার (Abdul Jabbar) জানান, কৃষকরা শ্যালো মেশিন কাঁধে করে পাম্পে আসেন এবং সেখান থেকেই তেল নিয়ে যান। অনেকেই এখনো আগের নিয়মের কারণে মনে করেন বোতলে তেল দেওয়া হয় না। একসময় অকটেন ও পেট্রল বোতলে বিক্রি নিষিদ্ধ থাকায় সে সময় এমনটা করা হতো।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন, ইউএনও ও কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সীমিত পরিসরে বোতলে তেল সরবরাহের অনুমতি দেন। এখন কেউ জেনারেটরের জন্য, কেউ শ্যালো মেশিন নিয়েই আসেন। তবে কৃষি কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনেই তেল দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে, ডিজেল সংগ্রহের এই ব্যতিক্রমী পদ্ধতি একদিকে যেমন বাস্তবতার প্রতিফলন, অন্যদিকে তা সামাজিক মাধ্যমে হয়ে উঠেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।