অর্থপাচার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চাপে নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ

আর্থিক ও ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুঙ (Sudan Gurung)। অর্থপাচারের অভিযোগে তদন্তাধীন এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠতেই এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

অভিযোগ অনুযায়ী, তদন্তে থাকা ব্যবসায়ী ডিপক ভাট্টা (Dipak Bhatta)-এর সঙ্গে গুরুঙের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপ বাড়তে থাকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গুরুঙ জানান, সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোতে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং দায়িত্বে থেকে কোনো ধরনের স্বার্থের সংঘাত বা তদন্তে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা এড়াতেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তার বিনিয়োগ—বিশেষ করে শেয়ারবাজারে অংশগ্রহণ—নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। তাঁর ভাষায়, নৈতিকতা পদমর্যাদার চেয়েও বড় এবং জনবিশ্বাসের চেয়ে শক্তিশালী কিছু নেই।

দেশে চলমান জেন জেড আন্দোলনের কথাও উল্লেখ করেন গুরুঙ। তাঁর মতে, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে এই আন্দোলন একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—জনজীবন হতে হবে স্বচ্ছ এবং নেতৃত্বকে হতে হবে জবাবদিহিমূলক।

বিতর্ক শুরু হওয়ার পর তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এর আগে সোমবার দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, গুজব ও অভিযোগ এক বিষয় নয়, সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত প্রমাণের ভিত্তিতে, আবেগের নয়।

এই পদত্যাগ বালেন্দ্র শাহ (Balen Shah)-এর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের জন্য দ্বিতীয় ধাক্কা। এর আগে গত ৯ এপ্রিল শ্রম, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক এক মন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

ওই ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (Rastriya Swatantra Party)-এর পক্ষ থেকে অপসারণের সুপারিশ করা হয়। দলটির চেয়ারম্যানের পাঠানো আনুষ্ঠানিক চিঠির ভিত্তিতেই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

সব মিলিয়ে, একের পর এক বিতর্কে নেপালের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও আলোচনায় উঠে এসেছে।