আড়ালে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন, গুঞ্জন বিদেশযাত্রা—জামিনের পর বাড়ছে জল্পনা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী (Shirin Sharmin Chaudhury) পদত্যাগের পর থেকেই রয়েছেন আড়ালে। এরপর একের পর এক বিতর্ক—পাসপোর্ট জটিলতা, হঠাৎ আটক, কারাগারে প্রেরণ এবং পরে জামিনে মুক্তি—সব মিলিয়ে তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা ও গুঞ্জন।

জামিনে মুক্তির পর আবারও জনসম্মুখ থেকে সরে যান তিনি। দীর্ঘদিন ব্যবহার করা মোবাইল ফোনটিও বন্ধ। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানের সঙ্গেও নিজেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন। এমনকি জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংসদে থাকা সরকারি বাসভবন লুট হওয়ার পর তিনি ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলেও জানা যায়।

পরবর্তীতে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হলেও বর্তমানে তিনি সেই ঠিকানাতেও নেই। পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের কাছেও তার অবস্থান অজানা। এই অবস্থায় তার বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতির খবর সামনে আসছে। জানা গেছে, আইনি জটিলতা ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হলেই তিনি দেশ ছাড়তে পারেন।

তবে পুরো বিষয়টি ঘিরে রয়েছে নানা গুঞ্জন। অনেকের ধারণা, পর্দার আড়ালে কোনো সমঝোতার ভিত্তিতেই এসব ঘটছে। এমনকি সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি মহলের নীরব সম্মতির কথাও শোনা যাচ্ছে। দ্রুত জামিন পাওয়ার ঘটনাকেও অনেকে এসব গুঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত করছেন। শোনা যাচ্ছে, এক ধরনের মুচলেকার ভিত্তিতে দেশ ছাড়ার সুযোগ পেতে পারেন তিনি, যার অন্যতম শর্ত হতে পারে আপাতত রাজনীতিতে সক্রিয় না হওয়া।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য নেতৃত্বে দেখানোর প্রচারণাও দেখা গেছে। যদিও এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত নয়। তবে একাধিক সূত্র বলছে, লোকচক্ষুর আড়ালে থাকলেও তিনি গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যেই রয়েছেন।

তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের দাবি, খুব শিগগিরই তিনি বিদেশে পাড়ি জমাতে পারেন। সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে কানাডা ও লন্ডনের নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত ইউরোপের অন্য কোনো দেশও হতে পারে তার ঠিকানা।

এরই মধ্যে পাসপোর্ট নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। জানা যায়, স্বামী সৈয়দ ইশতিয়াক হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন তিনি। পরবর্তীতে আঙুলের ছাপ ও আইরিশ দেওয়ার নির্ধারিত তারিখ থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, তারা বাসায় বসেই এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন, যেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও ওঠে।

গত ৬ এপ্রিল ভোররাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (Dhaka Metropolitan Detective Police – DB)। এরপর আদালতে দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১২ এপ্রিল সন্ধ্যায় গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকা ও রংপুরে জুলাইয়ের একাধিক হ’\ত্যা মামলায় তার নাম রয়েছে। তবে এসব মামলার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

এদিকে, তার জামিন পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Hafiz Uddin Ahmed)। ১৮ এপ্রিল ভোলা সার্কিট হাউসে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে আইন ও তথ্য বিশ্লেষণ করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আদালতের রায়কে সম্মান জানানো সবার দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সব মিলিয়ে, সাবেক স্পিকারকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই অনিশ্চয়তা ও গুঞ্জন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।