জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (Jahangirnagar University) ক্যাম্পাসের বটতলায় একটি খাবারের হোটেলে হালিমে মাছি পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হোটেলের এক কর্মচারীর দিকে হালিমের বাটি ছুড়ে মারার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক হোসনে মোবারকের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতের এই ঘটনার জেরে বুধবার রাত ৮টার দিকে একদল শিক্ষার্থী বটতলার অন্তত ২৫টি দোকান বন্ধ করে দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার রাতে। জাকসু নেতা হোসনে মোবারক বটতলার ‘হাবিব ভাইয়ের হোটেল’-এ খেতে গিয়ে হালিমে মাছি দেখতে পান বলে অভিযোগ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, এ নিয়ে তিনি হোটেলের কর্মচারীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে কর্মচারীর দিকে হালিমের বাটি ছুড়ে মারেন। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বুধবার বিকেল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক গ্রুপগুলোতে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া।
এর জের ধরে সন্ধ্যার দিকে একদল শিক্ষার্থী বটতলার দোকানগুলো বন্ধ করার নির্দেশ দেয়, ফলে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করতে বাধ্য হন। দোকান বন্ধকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
জাকসু নেতার এই আচরণের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও সংহতি প্রকাশ করেন এবং অভিযুক্ত নেতার বিচার দাবি তোলেন। অন্যদিকে, ছাত্রশক্তি থেকে নির্বাচিত জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতিসহ আরেকটি পক্ষ দোকান খুলে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়। তারা হোসনে মোবারকের আচরণের বিচার দাবি করলেও, সব দোকান বন্ধ করে দেওয়াকে সমাধান হিসেবে দেখছেন না।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলী আরাফাত খান বলেন, একজন কর্মচারীর সঙ্গে এমন আচরণের প্রতিবাদে দোকানদাররা স্বপ্রণোদিতভাবেই দোকান বন্ধ রেখেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী অভিযুক্তকে রক্ষা করতে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
এদিকে মোহাম্মদ আলী চিশতি বলেন, “ঘটনার বিচার আমরা সবাই চাই। তবে জোরপূর্বক সব দোকান বন্ধ করে দেওয়া কোনো কার্যকর সমাধান হতে পারে না।”
অভিযোগের বিষয়ে হোসনে মোবারক শারীরিক আঘাতের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আমি একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে খাবারের মান নিয়ে প্রতিবাদ করেছি। দুর্গন্ধযুক্ত খাবারে মাছি দেখে ক্ষোভ থেকে বাটিটি ছুড়ে মারি, তবে কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য ছিল না।” তিনি আরও বলেন, খাবারের মান নিশ্চিত করা শুধু জাকসুর দায়িত্ব নয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক জানান, বাটি ছোড়া এবং দোকান বন্ধ—এই দুই ঘটনাকে ঘিরেই মূলত বিরোধ তৈরি হয়েছিল। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আরও জানান, স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
