লেবানন-সিরিয়ায় অনুপ্রবেশ করে বসতি স্থাপনের ডাক, উগ্রপন্থী ইসরায়েলিদের পদক্ষেপে বাড়ছে উত্তেজনা

লেবানন ও সিরিয়ার সার্বভৌম ভূখণ্ডে অবৈধভাবে প্রবেশ করে নতুন করে ইহুদি বসতি স্থাপনের দাবি তুলেছে উগ্রপন্থী ইসরায়েলিদের একটি দল। এই ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় লেবানন (Lebanon)-এর দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করে এই উগ্রপন্থীরা সীমান্ত অতিক্রম করে কয়েকশ মিটার ভেতরে চলে যায়। বসতি স্থাপনের পক্ষে প্রচারণা চালানো একটি গোষ্ঠীর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের অভ্যন্তরে অবস্থান নিয়ে ঘোষণা দিচ্ছে—“আমাদের কর্মীরা এখন দক্ষিণ লেবাননে” এবং সেখানে স্থায়ী বসতি স্থাপনের কার্যক্রম ‘পুনরায় শুরু করার’ আহ্বান জানাচ্ছে।

একই দিনে লেবাননে প্রবেশের কয়েক ঘণ্টা আগে ‘বাশান পাইওনিয়ার্স’ নামের একটি আন্দোলনের সদস্যরা সিরিয়া (Syria)-এর হাদের গ্রামে ঢুকে পড়ে। সেখানে একটি ভবনের ছাদে উঠে তারা ইসরায়েলি পতাকা উত্তোলন করে। এ সময় আশপাশে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে।

ইসরায়েল (Israel)-এর পাবলিক ব্রডকাস্টার জানায়, পরবর্তীতে এই অনুপ্রবেশকারীদের ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সিরিয়া থেকে অন্তত ৪০ জন ইসরায়েলি নাগরিককে ফেরত আনা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অনুপ্রবেশ বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং তথাকথিত ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ইসরায়েলের চরমপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ (Bezalel Smotrich)-সহ একাধিক নেতা দীর্ঘদিন ধরে গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরের পাশাপাশি সিরিয়া, জর্ডান ও লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সম্প্রসারণের পক্ষে মত দিয়ে আসছেন।

গত ২ মার্চ ইরান (Iran) যুদ্ধ শুরুর পর থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ২ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষ নি’\হত হয়েছেন এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

উদ্বেগের বিষয় হলো, গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে ১০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও বাস্তবে হামলা ও অনুপ্রবেশের ঘটনা থামছে না। এই পরিস্থিতিতে বসতি স্থাপনকারীদের এমন উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ও সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখা এই অনুপ্রবেশ আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারে। ইতোমধ্যে দুই দেশই এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে উগ্রপন্থীদের এই ধরনের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি