১১ বছর পরও তনু হ’\ত্যা মামলায় গতি নেই, গ্রে’\প্তা’\র এক সন্দেহভাজন—রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু

এসময় তনুর মা আনোয়ারা বেগম ও ছোট ভাই রুবেল হোসেন কুমিল্লার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দাঁড়িয়ে পরিবারের সদস্যদের মুখে ছিল হতাশা আর ক্ষীণ আশার মিশ্র ছাপ।

এর আগে প্রায় এক দশক পেরিয়ে যাওয়ার পর, ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তৎকালীন সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে (অব.) ঢাকার কেরানীগঞ্জে তার নিজ বাসা থেকে অভিযান চালিয়ে গ্রে’\প্তা’\র করা হয়। পরে বুধবার বিকেলে তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তনুর বাবা ইয়ার হোসেন আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে বলেন, “আজ ১১ বছর হয়ে গেল, কিন্তু আমার মামলার কোনো অগ্রগতি ছিল না। এই সরকার আসার পর অন্তত মামলাটি আদালতে উঠেছে।”

অন্যদিকে, তনুর মা আনোয়ারা বেগম আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, “আমার মেয়েকে যারা হ’\ত্যা করেছে, তাদের বিচারটা হোক। মেয়েকে হারিয়ে আমি এখনো কষ্ট করে যাচ্ছি। বিচারটা হলে অন্তত শান্তি পাব।”

তনুর ভাই রুবেল হোসেন বলেন, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার কিছুটা অবসান হয়েছে। আমার বোনের হ’\ত্যা’\কা’\ণ্ডে একজনকে গ্রে’\প্তা’\র করা হয়েছে। আশা করছি, বাকি যারা জড়িত আছে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা বিশ্বাস করি, আদালতে ন্যায় বিচার পাব।”

আদালত সূত্র জানায়, গত ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা তিন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার আবেদন করেন। এদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন কুমিল্লা সেনানিবাসের সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক জাহাঙ্গীর ওরফে জাহিদ। আদালত সেই আবেদনে সম্মতি দেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ (Comilla Victoria Government College)-এর ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের কাছে একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, তাকে ধ’\র্ষ’\ণের পর হ’\ত্যা করা হয়েছে।

পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হ’\ত্যা ও ধ’\র্ষ’\ণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

তবে তদন্তের শুরু থেকেই ছিল নানা প্রশ্ন। ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন দুই দফা ময়নাতদন্তেও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি বলে জানায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি জানায়, তনুর পোশাক থেকে সংগৃহীত নমুনায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। একই বছরের অক্টোবর মাসে সন্দেহভাজন তিনজনকে ঢাকার সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।

বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, “গত ৬ এপ্রিল আমরা তিন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতে আবেদন করি। আদালতের আদেশের ভিত্তিতে হাফিজুর রহমানকে গ্রে’\প্তা’\র করে আদালতে হাজির করা হয়। আমরা ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছিলাম, আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।”

এখন প্রশ্ন একটাই—দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষার পর কি সত্যিই এই মামলায় বিচার প্রক্রিয়া গতি পাবে, নাকি আবারও সময়ের গহ্বরে হারিয়ে যাবে সত্য?