চট্টগ্রামে সংঘর্ষে হাতে কি’\রিচ নিয়ে ভাইরাল যুবকের পরিচয় মিলল, নিজেকে নির্দোষ দাবি

চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজ এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের সময় হাতে কি’\রিচ নিয়ে ভাইরাল হওয়া এক যুবকের পরিচয় অবশেষে সামনে এসেছে। নীল শার্ট পরা ওই যুবকের নাম মির্জা ফারুক। তিনি ওমরগণি এমইএস কলেজ (Omar Gani MES College) শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবে পরিচিত। তার বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) নগরের স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফারুক দাবি করেন, ভাইরাল হওয়া কি’\রিচটি তার নিজের নয়, বরং ছাত্রশিবিরের কর্মীদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র।

তার ভাষ্য, “তারা (শিবির) যখন আমাদের ওপর হামলা চালায়, তখন আমরা পাল্টা প্রতিরোধ করি। আমাদের প্রতিরোধের মুখে তারা অস্ত্রটি ফেলে পালিয়ে যায়। আমি সেটি কুড়িয়ে নিয়ে পুলিশের কাছে জমা দিতে যাচ্ছিলাম। সেই সময় কিছু ছবি তুলে আমাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা হয়েছে।”

তিনি এ ঘটনাকে ‘নোংরা রাজনীতি’ বলে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন।

এর আগে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ (Chittagong Government City College) ক্যাম্পাসে দেয়ালের গ্রাফিতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। ‘ছাত্র’ শব্দ মুছে ‘গুপ্ত’ লেখাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় দফায় দফায় সংর্ঘষ, যা দ্রুতই রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অনেকেই মাথায় হেলমেট পরে, হাতে লাঠিসোটা, পাথর ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অপরের দিকে ধাওয়া করছেন। এসব দৃশ্যের মধ্যেই নীল শার্ট পরিহিত মির্জা ফারুকের হাতে কি’\রিচ থাকার ছবি ও ভিডিও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো ভিডিওতে থাকা অন্যান্য অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করতে পারেনি।

ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের কথাও উঠে এসেছে। কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (Bangladesh Chhatra League)-এর নিয়ন্ত্রণে থাকা এ ক্যাম্পাসে ৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (Bangladesh Jatiyatabadi Chhatra Dal) ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির (Bangladesh Islami Chhatra Shibir) সক্রিয় হয়ে ওঠে। নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধই শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবারের সংঘর্ষে বিস্ফোরিত হয়।

এই সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে গুরুতরভাবে আ’\হত হয়েছেন স্থানীয় এক ওয়ার্ড শিবিরের সভাপতি ও সংগঠনটির সাথি আশরাফুল ইসলাম। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার একটি পায়ের গোড়ালি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বুধবার বিকেলে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।