তাপপ্রবাহের পর স্বস্তির বৃষ্টি, তবে সিলেট-ময়মনসিংহে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

দীর্ঘ তাপপ্রবাহের পর দেশে অবশেষে বৃষ্টির স্বস্তির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস (Bangladesh Meteorological Department)। তবে এই স্বস্তির বৃষ্টি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সোমবার থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে টানা ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে হাওরাঞ্চলসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিচু এলাকাগুলোতে পানি দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চলতি এপ্রিল মাসের ২০ তারিখ থেকে শুরু হওয়া মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ শনিবার থেকে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। এই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রাজশাহীতে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক (Dr. Abul Kalam Mallik) জানান, আজ সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী চার দিন রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বজ্রমেঘের ঘনঘটা বাড়বে। পরবর্তীতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে ভারি বৃষ্টির পাশাপাশি কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতের সম্ভাবনাও প্রবল।

অন্যদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (Flood Forecasting and Warning Centre) জানিয়েছে, ভারতের মেঘালয় ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে উজান থেকে নেমে আসা ঢল তীব্র হতে পারে। এতে সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, মনু, খোয়াই এবং নেত্রকোনা জেলার কংস নদের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

ফলে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় আকস্মিক বন্যার উচ্চঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, মেঘালয় অঞ্চলে ভারি বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকায় হাওর এলাকায় দ্রুত পানি প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, পানি বাড়লে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের নিম্নাঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এর আগে ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে ভয়াবহ বন্যায় হাওর অঞ্চলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার আগাম সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (Bangladesh Water Development Board) জানিয়েছে, সম্ভাব্য বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়।