ইসরাইলের ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)-কে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য সামনে রেখে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দেশের সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ (Yair Lapid) একজোট হয়ে আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার এক যৌথ টেলিভিশন ভাষণে তারা এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট (Naftali Bennett) ভাষণে বলেন, “রোববার রাতে আমি আমার বন্ধু ইয়াইর লাপিদের সঙ্গে মিলে আমাদের দেশের জন্য সবচেয়ে জায়নিস্ট ও দেশপ্রেমিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি।” তিনি জানান, তারা ‘বেয়াহাদ (একসঙ্গে)’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করছেন, যা ভবিষ্যতে বড় বিজয় অর্জনের পাশাপাশি দেশের জন্য নতুন এক যুগের সূচনা করবে।
একইসঙ্গে লাপিদও এই জোটকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বেনেট যদিও ডানপন্থী রাজনীতিক, তবে তার প্রতি তার আস্থা রয়েছে। “আমাদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস আছে,”—উল্লেখ করেন তিনি। এর আগে রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লাপিদ জানান, এই জোট ‘রিপেয়ার ব্লক’-এর ঐক্য গড়ে তুলবে এবং ইসরাইলকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নেবে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বেনেট বলেন, তিনি ক্ষমতায় এলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার আগের ব্যর্থতাগুলো তদন্ত করতে একটি জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করবেন। বর্তমান নেতানিয়াহু সরকার এই ধরনের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই হামলার পর থেকেই বেনেট ও লাপিদ দু’জনই নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে আসছেন। এমনকি লাপিদ সাম্প্রতিক ইরান-ইসরাইল যুদ্ধবিরতিকেও “রাজনৈতিক বিপর্যয়” বলে অভিহিত করেছেন।
রাজনৈতিক বাস্তবতায় বেনেট দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীরের বসতি স্থাপনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে, ২০২১ সালের জুনে বেনেট ও লাপিদ একসঙ্গে জোট সরকার গঠন করেছিলেন। তবে ২০২২ সালের শেষদিকে সেই সরকার ভেঙে পড়ে এবং পুনরায় নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়। এর আগে বেনেট নিজেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তার জোট আর টেকসই নয়। পরে স্বল্প সময়ের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন লাপিদ।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনমত জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আসন্ন অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন বেনেট। এদিকে, রোববার বেনেট কেন্দ্রপন্থী ‘ইয়াশার’ দলের নেতা গাদি আইজেনকট (Gadi Eisenkot)-কে এই নতুন জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
৫৪ বছর বয়সী বেনেট কেবল রাজনীতিবিদই নন, তিনি একজন সফল হাই-টেক উদ্যোক্তাও। ২০০৫ সালে তিনি তার স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ১৪৫ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেন। পাশাপাশি, সাবেক ইসরাইলি কমান্ডো কর্মকর্তা হিসেবে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা গাজা যুদ্ধের পর তরুণদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। একসময় নেতানিয়াহুর উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার নীতির কঠোর সমালোচকে পরিণত হন বেনেট। খবরটি প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি (AFP)।


