এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিল, সংসদে বিল পাস

জাতীয় সংসদে এমপিদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির দীর্ঘদিনের সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। ‘দ্য মেম্বার্স অব দ্য পার্লামেন্ট (রেমুনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল’ পাসের মাধ্যমে এই সুবিধা তুলে নেওয়া হয়। রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad)-এ সদস্যদের কণ্ঠভোটে বিলটি অনুমোদিত হয়।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে মন্ত্রিসভা (Cabinet of Bangladesh)-র বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দফতরে বিশেষ সুবিধা কমিয়ে আনা এবং কর ব্যবস্থায় সমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়, সংসদ সদস্যদের পারিতোষিক ও ভাতাদি ‘দ্য মেম্বার্স অব দ্য পার্লামেন্ট (রেমুনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার, ১৯৭৩’ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। এই আইনের আওতায় তারা এতদিন শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা ভোগ করতেন।

সারসংক্ষেপে আরও বলা হয়, জনগণের সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আইনি সুবিধা ব্যবহার করে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করলে তা একদিকে নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং অন্যদিকে কর প্রদানে সাধারণ জনগণের সঙ্গে বৈষম্য তৈরি করে।

এ প্রেক্ষাপটে সংসদ নেতার (প্রধানমন্ত্রী) দৃষ্টিভঙ্গি এবং বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এই সুবিধা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে। রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদার এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ বিলুপ্তির প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় গৃহীত হয়।

এর আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (Amir Khasru Mahmud Chowdhury) গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকেই জনপ্রতিনিধিদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা না নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১৯৭৩ সালের আদেশ অনুযায়ী এমপিদের বেতন-ভাতাসংক্রান্ত আইনে সংশোধন এনে এই সুবিধা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

উল্লেখ্য, বিষয়টি আগেও আলোচনায় এসেছিল। পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ (Awami League) সরকারের সময় ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বাজেটে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী (Abul Hasan Mahmud Ali) এই সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব দিলেও সংসদ সদস্যদের আপত্তির মুখে তা পাস হয়নি।