রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু, পরীক্ষামূলক উৎপাদনের পথে বড় অগ্রগতি

দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর একটি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছেছে। জ্বালানি স্থাপন বা ফুয়েল লোডিং প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে কেন্দ্রটির বাস্তব উৎপাদনের প্রস্তুতি আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

জানা যায়, কেন্দ্রটির কার্যক্রম পরিচালনার পদ্ধতি অত্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর এবং জটিল। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চুল্লিতে নিউক্লিয়ার ফিশন বা পরমাণু বিভাজন প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম বান্ডেল স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি বান্ডেলের ভেতরে রয়েছে ১৫টি করে ইউরেনিয়াম প্লেটসমৃদ্ধ রড।

এই জ্বালানি স্থাপনের পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং সময়সাপেক্ষ। সংশ্লিষ্টদের মতে, সম্পূর্ণ ফুয়েল লোডিং শেষ করতে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে। এই ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই শুরু হবে নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়া। এতে উৎপন্ন তীব্র তাপ থেকে বাষ্প তৈরি হবে, যা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, জ্বালানি স্থাপনের পুরো কাজ শেষ করতে প্রায় ৩০ দিনের মতো সময় লাগবে। এরপর কেন্দ্রটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম, অর্থাৎ কমিশনিং শুরু হবে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। যদিও শুরুতে উৎপাদনের পরিমাণ সীমিত থাকবে, ধীরে ধীরে তা পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাবে। পুরো প্রকল্পটি শতভাগ উৎপাদনে যেতে আগামী বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করে। এর ফলে আজ, ২৮ এপ্রিল, জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার পথ উন্মুক্ত হয়।

উল্লেখ্য, পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত এই প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার করা হয়েছে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর।