চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি ঠেকাতে ‘বিশেষ কার্ড’ চাইলেন আসিফ মাহমুদ, সরকারের ওপর তীব্র সমালোচনা

দেশের বর্তমান বাস্তবতায় চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে নতুন ধরনের পদক্ষেপের দাবি উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া (Asif Mahmud Sajib Bhuiyan) সরাসরি প্রস্তাব দিয়েছেন—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর কাছে ‘চাঁদাবাজবিরোধী’ এবং ‘দুর্নীতিবিরোধী’ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকা (Dhaka)-এর অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নবগঠিত কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ দাবি জানান। বক্তব্যের শুরু থেকেই তিনি দেশের চলমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতার দিকে আঙুল তোলেন।

সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এখন যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য ‘কার্ড’ নির্ভর একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতায় দেশের অন্যতম বড় সমস্যা—চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি—দূর করতে একই ধরনের বিশেষ কার্ড চালুর দাবি অযৌক্তিক নয় বলেই তিনি মনে করেন।

রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আসিফ মাহমুদ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party) সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত একটি প্ল্যাটফর্ম। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, যারা গণহত্যাকারী, ফ্যাসিবাদের সহযোগী কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত—তাদের জন্য এই দলে কোনো জায়গা নেই। তার বক্তব্যে ছিল বর্তমান প্রশাসনের প্রতি তীব্র অসন্তোষ; তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

জ্বালানি খাতের সংকট ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি সরকারের তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষায়, সরকার একদিকে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকার দাবি করছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ পাম্পে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট পাচ্ছে। একইসঙ্গে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপানোর বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টাকেও তিনি ‘হাস্যকর’ বলে উল্লেখ করেন। এই ধরনের প্রশাসনিক দুর্বলতা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলের প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, এনসিপিকে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে আনার কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, যারা তাদের সমর্থন দেবেন, তাদের প্রতিটি ভোট সুরক্ষিত রাখতে দল দৃঢ়ভাবে মাঠে থাকবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে শক্ত অবস্থান ও কঠোর পাহারার মাধ্যমে গণরায়ের অপব্যবহার ঠেকানোর অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নতুন কমিটির সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। বক্তারা ভবিষ্যতে রাজপথের আন্দোলন জোরদার করা এবং জনগণের অধিকার আদায়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।