বর্তমানে দেশে কোনো জঙ্গি তৎপরতা নেই বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed)। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, অতীতে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ‘জঙ্গিবাদ’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে অন্যদিকে সরকারের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ভিন্নমত তুলে ধরে বলেছেন, দেশে জঙ্গি রয়েছে এবং সেটি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য: “এখন আর জঙ্গি তৎপরতা নেই”
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (Bangladesh Coast Guard)-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সেখানে এক সাংবাদিক দেশে জঙ্গি উত্থান ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তিনি ‘জঙ্গি’ শব্দটিকে স্বীকৃতি দেন না।
তার ভাষায়, দেশে এখন এ ধরনের কোনো তৎপরতা নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন, বিভিন্ন দেশে এক্সট্রিমিস্ট গ্রুপ, র্যাডিক্যাল ফোর্স এবং ফান্ডামেন্টাল রাজনৈতিক গোষ্ঠী থাকতে পারে, যা স্বাভাবিক বিষয়।
তিনি আরও বলেন, “আগের ফ্যাসিবাদী আমলে এই শব্দটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতো। তখন জঙ্গিবাদকে ভয় দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।”
ভিন্ন অবস্থান উপদেষ্টার বক্তব্যে
অন্যদিকে সরকারের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ডা. জাহেদ উর রহমান (Dr. Jahaed Ur Rahman) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, দেশে জঙ্গি রয়েছে—এ বিষয়টি অস্বীকার করা যাবে না।
তিনি জানান, অতীত সরকারের সময়ে জঙ্গি ইস্যুকে অতিরঞ্জিত করে রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করা হয়েছিল। আবার পরবর্তীতে কেউ কেউ বলার চেষ্টা করেছে যে দেশে কোনো জঙ্গি নেই—এটিও ভুল।
তার ভাষায়, “দুটোই এক্সট্রিম। বাস্তবতা হলো বাংলাদেশে এক সময় মিলিট্যান্সি বা জঙ্গিবাদ ছিল, এখনো তার কিছু রূপ রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, সরকার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে এবং লক্ষ্য হলো এটিকে ‘শূন্যের কোঠায়’ নামিয়ে আনা।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও গোয়েন্দা সতর্কতা
এর আগে পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তায় বলা হয়, নিষিদ্ধঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠন দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। এরপর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থাপনায়, বিশেষ করে বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে, তবে তা সংবেদনশীল হওয়ায় প্রকাশ করা যাবে না।
তিনি বলেন, “ঝুঁকি আছে, তবে এটি এমন পর্যায়ে নয় যে ভয় পাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বরং আমরা চাই এটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে।”
বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা
সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ সদর দপ্তর (Police Headquarters Bangladesh) থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘিরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এরপর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে বিমানবন্দরে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।
এর আগে দেওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা রয়েছে, যা প্রতিরোধে সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপদেষ্টার বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। একজন বলছেন দেশে কোনো জঙ্গি তৎপরতা নেই, অন্যজন বলছেন—ঝুঁকি রয়েছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
তবে উভয় পক্ষই অতীত সরকারের সময় জঙ্গি ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন, যা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
