“আমরা রাজাকারের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি”—এমন মন্তব্য করে জাতীয় সংসদে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ (Andalib Rahman Partha)। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad)-এর ত্রয়োদশ অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বক্তব্যে পার্থ বলেন, “বাংলাদেশকে হিন্দু-মুসলমানে ভাগ করা যাবে না, আমেরিকা-রাশিয়ায় ভাগ করা যাবে না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যখন বলতে হবে, তখন প্রশ্ন আসে—কার সঙ্গে যুদ্ধ করেছি? হাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করেছে মুক্তিবাহিনী? আমরা রাজাকারের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি।”
রাজনৈতিক বার্তা ও সতর্ক উচ্চারণ
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়েও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তার ভাষায়, “আওয়ামী লীগ (Awami League) ফিরে আসা নিয়ে আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—জুলাইকে অস্বীকার করে বাংলাদেশে কোনো রাজনীতি করার সুযোগ নেই। জুলাইকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ নেই এবং এই বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজনীতিরও সুযোগ নেই।”
সংসদে উত্তেজনার সূত্রপাত
এদিন দুপুরে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান (Fazlur Rahman)-এর ‘মুক্তিযুদ্ধ’ প্রসঙ্গের বক্তব্যকে ঘিরে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ভিন্ন সুর
পরিস্থিতির মধ্যে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান (Shafiqur Rahman) প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “একজনের অবদান তুলে ধরতে গিয়ে অন্যের অবদান খাটো করার অধিকার কারও নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, কে কোন রাজনৈতিক দল করবে বা কোন আদর্শ অনুসরণ করবে, সেটি ব্যক্তির নাগরিক অধিকার—এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা সংবিধানসম্মত নয়।
সংসদের ভেতরে এমন বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বর্তমান রাজনীতি এবং মতপ্রকাশের সীমারেখা—সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
