ইরান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৫ বিলিয়ন ডলার, রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে—প্রথমবারের মতো এমন সরকারি হিসাব প্রকাশ করেছে পেন্টাগন (Pentagon)। বুধবার (২৯ এপ্রিল) হাউসের আইনপ্রণেতাদের সামনে এই তথ্য তুলে ধরেন প্রতিরক্ষা দপ্তরের শীর্ষ বাজেট কর্মকর্তা।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্যদের সামনে প্রতিরক্ষা দপ্তরের কমপট্রোলার জে হার্স্ট জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন, এই বিপুল অর্থের বড় অংশই গোলাবারুদ খাতে খরচ হয়েছে, আর বাকি অংশ ব্যবহৃত হয়েছে অপারেশন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে।

এই সংঘাতের সামরিক ব্যয়ের এটি প্রথম সরকারি হিসাব, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। রিপাবলিকান পার্টি (Republican Party) যখন হাউসে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে লড়ছে, তখন ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (Democratic Party) কৌশলে যুদ্ধ ব্যয়ের বিষয়টি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে যুক্ত করে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই প্রথম যুদ্ধ ব্যয়ের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হলো।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই যুদ্ধের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে রাজি হননি। চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরাসরি আক্রমণাত্মক তৎপরতা কিছুটা কমলেও এখন উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধের পথে হাঁটছে।

অন্যদিকে, মার্কিন নৌবাহিনীর অব্যাহত অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।