কালবৈশাখীর তাণ্ডবে শাল্লা অন্ধকারে: টানা পাঁচদিন বিদ্যুৎহীন জনজীবন, বিপাকে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী

সুনামগঞ্জের শাল্লা (Shalla) উপজেলায় একটানা পাঁচদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। গত রোববার বিকেলে কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাতে দিরাই-শাল্লা বিদ্যুৎ লাইনের অন্তত ২০টি খুঁটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই এই সংকটের শুরু। শুক্রবার পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলার সদরসহ ডুমরা, ঘুঙ্গিয়ারগাঁও এলাকা এবং আশপাশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্ধকারে ডুবে আছে। জরুরি কাজ চালাতে উপজেলা প্রশাসন জেনারেটরের সহায়তা নিচ্ছে, তবে সেটিও সীমিত। সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এখনো মোমবাতির আলোয় দিন কাটাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। পড়াশোনার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। উপজেলা সদরের ব্যবসায়ী শাহরিয়ার নাইম জানান, “পাঁচদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই, ফ্রিজে রাখা পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।” আরেক ব্যবসায়ী সৌরভ চন্দ্র দাস বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ। এই সমস্যা নতুন নয়, প্রায়ই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।”

এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস জানান, পুরো উপজেলা সদর বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, “জরুরি কাজগুলো জেনারেটর চালিয়ে করতে হচ্ছে। সকল গ্রাহকই চরম ভোগান্তিতে আছেন।” সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভেঙে যাওয়া খুঁটি মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (Bangladesh Power Development Board)-এর দিরাই-শাল্লা অঞ্চলের আবাসিক প্রকৌশলী পরশুরাম তরফদার জানিয়েছেন, “আগামীকাল বিকেলের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

টানা পাঁচদিনের এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এখন সকলের দৃষ্টি মেরামত কাজের দ্রুত সমাপ্তির দিকে—কবে আবার আলোকিত হবে শাল্লা, সেই অপেক্ষায় পুরো এলাকা।