“কাজ নয়, কেনাকাটা নয়”—মে দিবসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘মে ডে স্ট্রং’ আন্দোলনে জনতার ঢল

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আজ এক ভিন্নমাত্রার গণআন্দোলনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। “মে ডে স্ট্রং” নামের সমন্বিত কর্মসূচির আওতায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে অর্থনৈতিক বয়কট ও প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছেন। আয়োজকদের স্পষ্ট বার্তা—“কোনো স্কুল নয়, কোনো কাজ নয়, কোনো কেনাকাটা নয়”—এই আহ্বান ঘিরেই দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরে ওয়াকআউট, মিছিল, সমাবেশ এমনকি ব্লক পার্টিরও আয়োজন করা হয়েছে।

সকাল হতেই পূর্বাঞ্চলীয় শহরগুলোতে প্রতিবাদের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। নিউইয়র্কে অ্যামাজন (Amazon)-এর কর্মী, ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (Teamsters)-এর সদস্য এবং স্থানীয় রাজনীতিবিদরা একত্র হয়ে পাবলিক লাইব্রেরির প্রধান শাখা থেকে অ্যামাজনের কর্পোরেট অফিস পর্যন্ত মিছিল করেন। তাদের মূল দাবি—অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এবং ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS)-এর সঙ্গে অ্যামাজনের সব চুক্তি বাতিল করতে হবে।

রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি (Washington, D.C.)-তেও উত্তেজনা ছিল চোখে পড়ার মতো। “ফ্রি ডিসি” সংগঠনের কর্মীরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল ব্যাহত করেন। তাদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল—“শ্রমিক বনাম ধনকুবের” এবং “যু’\দ্ধ নয়, স্বাস্থ্যসেবা চাই”—যা আন্দোলনের মূল সুরকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

মধ্যাহ্নে মিনিয়াপোলিস (Minneapolis)-এ “সানরাইজ মুভমেন্ট” (Sunrise Movement)-এর ছয়জন তরুণ কর্মী একটি সেতু অবরোধের ঘটনায় গ্রেপ্তার হন। একই সময়ে পোর্টল্যান্ড (Portland)-এ সংগঠনটির কর্মীরা একটি হোটেলের লবিতে অবস্থান নেন, যেখানে ডিএইচএস কর্মকর্তাদের উপস্থিতি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই আন্দোলন কেবল শ্রমিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এতে যুক্ত হয়েছে অভিবাসী অধিকার সংগঠন, রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র আন্দোলনকারীরা। তাদের সম্মিলিত দাবি—অভিবাসন নীতির পরিবর্তন, যু’\দ্ধবিরোধী অবস্থান এবং ধনীদের ওপর অধিক কর আরোপ।

শিক্ষা খাতেও এই আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে। উত্তর ক্যারোলিনার অন্তত ১৫টি স্কুল জেলা শিক্ষকদের ছুটি ঘোষণা করেছে। শিকাগোতে শিক্ষক ইউনিয়নের উদ্যোগে মে দিবসকে “নাগরিক অংশগ্রহণ দিবস” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, ফলে বহু স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে।

শিকাগো টিচার্স ইউনিয়নের সভাপতি স্টেসি ডেভিস গেটস (Stacy Davis Gates) বলেন, এই আন্দোলনের লক্ষ্য তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। অন্যদিকে পারডু বিশ্ববিদ্যালয় (Purdue University)-এর ছাত্র সংগঠক সানশ্রয় কুকুতলা মনে করেন, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত শক্তিই অর্থনৈতিক কাঠামোকে সচল রাখে—আর সেই শক্তির মাধ্যমেই আজকের এই প্রতিবাদ সংগঠিত হচ্ছে।

এদিকে কিছু শ্রমিক ইউনিয়ন ইতোমধ্যে ধর্মঘটের পথেও হাঁটছে। নিউ অরলিন্সের ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের নার্সরা ন্যায্য চুক্তির দাবিতে পাঁচ দিনের ধর্মঘট শুরু করেছেন।

আয়োজকদের মতে, এই কর্মসূচি কেবল একদিনের নয়—বরং এটি একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সাধারণ ধর্মঘটের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবেই তারা এই কর্মসূচিকে দেখছেন। ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স (United Auto Workers)-এর সভাপতি শন ফেইন ২০২৮ সালের ১ মে একযোগে শ্রমিক চুক্তির মেয়াদ শেষ করে বৃহৎ আকারের ধর্মঘটের আহ্বান জানিয়েছেন।