ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (Dhaka South City Corporation) নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েমকে বেছে নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ (Jamaat-e-Islami Bangladesh)—এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নির্ভরযোগ্য সূত্র। তবে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে ভিন্ন সুর শোনা গেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের (Bangladesh Islami Chhatra Shibir) পক্ষ থেকে। সংগঠনটি বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় সাদিক কায়েম কোনো দলের হয়ে প্রার্থী হতে পারেন না।
একই সময়ে এই সিটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (Jatiya Nagorik Party) তাদের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে জামায়াতের এই একতরফা সিদ্ধান্তে দুই রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে সম্ভাব্য টানাপোড়েন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
এই পরিস্থিতিতে বিএনপি নেতা রাশেদ খান (Rashed Khan) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে বিষয়টিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসেন। তার পোস্টে উঠে আসে অতীতের কিছু রাজনৈতিক ঘটনার প্রসঙ্গ। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় আসিফ মাহমুদকে ঢাকা-১০ আসন ছাড় দেয়নি জামায়াত। সে সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে থাকা অবস্থায় আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সামনে আনা হয়। এমনকি সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus) ব্যক্তিগতভাবে জামায়াতের আমিরকে ফোন করেও আসন ছাড়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু তাতেও সাড়া মেলেনি।
রাশেদ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপিও আসিফ মাহমুদকে সেই আসন ছাড় দেয়নি, যার ফলে তাকে শেষ পর্যন্ত এনসিপিতে যোগ দিতে হয়। এবার আবার এনসিপির সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই জামায়াত সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক সমন্বয় নিয়ে। তিনি মন্তব্য করেন, এই সিদ্ধান্ত জোট রাজনীতিতে টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে এবং এনসিপি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
পোস্টের এক পর্যায়ে তিনি আরও লিখেছেন, গণঅভ্যুত্থানের সাহসী যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত আসিফ মাহমুদকে ঘিরে জামায়াতের এই অবস্থান বিস্ময়কর। তার মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যুক্ত হওয়াটাই আসিফ মাহমুদের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জামায়াত এনসিপিকে আনুষ্ঠানিক গুরুত্ব দিলেও আসিফের বিতর্কের দায় নিতে চায় না বলেও ইঙ্গিত করেন তিনি।
সবশেষে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় বলেন, রাজনৈতিক এই ‘খেলা’ এখন অন্য মাত্রায় পৌঁছেছে। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে কাউকে চিহ্নিত করার রাজনীতির ভেতরেও পাল্টা কৌশল চলছে। তার ভাষায়, “খেলা যে চলছে কোন লেভেলে”—এই মন্তব্যেই যেন বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার জটিলতা ফুটে উঠেছে।
