অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (National Citizen Party) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে (Asif Mahmud Sajib Bhuiyan) নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য কটাক্ষ করেছেন দলটির সাবেক নেত্রী নীলা ইস্রাফিল (Neela Israfil)। শুক্রবার (১ মে) বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সরাসরি এই মন্তব্য করেন, যা দ্রুতই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।
নীলা তার পোস্টে লিখেছেন, ‘জামায়াত-শিবির ব্যবহার করল ইউনূসের সরকারে রেখে, এরপর এমপি প্রার্থীও হতে দিল না। এখন মেয়রও হতে দেবে না। আহারে ব্রো লাইফটাই স্পয়েল হয়ে গেল তোমার!’—এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র মন্তব্যই ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মাধ্যমে, তৈরি করে নতুন বিতর্ক।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ভেতরে এই মন্তব্যকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। কারণ, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে এনসিপির মুখপাত্র হিসেবে সক্রিয় ভূমিকায় থাকেন। কিন্তু বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থিতা, আসন সমঝোতা এবং দলীয় মেরুকরণ নিয়ে ভেতরে-বাইরে যে আলোচনা চলছে, তার মধ্যেই এই মন্তব্য যেন নতুন মাত্রা যোগ করল।
উল্লেখ্য, নীলা ইস্রাফিল একসময় এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি সাবেক নেত্রী হিসেবে পরিচিত। তবে তার এই বক্তব্যের বিষয়ে এখনো আসিফ মাহমুদ বা দলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (Dhaka South City Corporation) নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ (Rifat Rashid)। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এনসিপির আসিফ মাহমুদ এবং জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami) মনোনীত প্রার্থী সাদিক কায়েম আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপি প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যেতে পারে।
তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১১ দলীয় জোটের সম্ভাব্য দুই প্রার্থী পৃথকভাবে লড়লে তরুণ ভোটব্যাংক বিভক্ত হয়ে পড়বে। এর ফলে ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপি প্রার্থী তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাড়তি সুবিধা পাবে।
রিফাত রশিদ আরও উল্লেখ করেন, সাদিক কায়েম বর্তমানে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় জামায়াতের প্রার্থী হতে হলে তাকে সাংগঠনিকভাবে পদত্যাগ বা ছুটিতে যেতে হতে পারে। এতে তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান, বিশেষ করে ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে উঠে আসার সম্ভাবনা, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না এলে সাদিক কায়েমের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় নির্বাচনে পরাজিত হলেও তার অবস্থান তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে ১১ দলীয় জোটে সম্ভাব্য বিভক্তির বিষয়টি জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন রিফাত রশিদ। এই পরিস্থিতিতে তিনি জোট নেতাদের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানান, যাতে রাজনৈতিক ভারসাম্য অটুট থাকে।
