জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি—জাগপা (JAGPA)-এর সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হলেও এর অধিকাংশ সময়জুড়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি (BNP) সরকার এমন ভাষা ব্যবহার করেছে, যা অতীতে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ (Awami League) আমলে প্রচলিত ছিল।
তিনি দাবি করেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বারবার জামায়াত-শিবির ও বিএনপিকে ‘রাজাকার’ আখ্যা দিত। অথচ বর্তমানে বিএনপিই ক্ষমতায় গিয়ে একইভাবে জামায়াত-শিবিরকে ‘রাজাকার’ বলছে। রাশেদ প্রধানের ভাষায়, “ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—যে দল একসময় এই তকমার শিকার ছিল, আজ তারাই একই শব্দ প্রয়োগ করছে।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপি যেন ভুলে গেছে—কিছুদিন আগেও আওয়ামী লীগ জামায়াত-শিবিরের পাশাপাশি বিএনপিকেও একইভাবে আক্রমণ করত। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “শুনেছিলাম, ‘যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ’। বিএনপিকে দেখে এখন মনে হচ্ছে—যে-ই ক্ষমতায় যায়, সেই ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি’ হয়ে ওঠে।” তাঁর মতে, বাস্তবতা হলো—আওয়ামী লীগের মতোই এখন বিএনপিও একাত্তরের চেতনা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে।
মহান মে দিবস (May Day) উপলক্ষে ‘শ্রমিক জাগপা’ আয়োজিত ‘শ্রমিক জনতার ডাক, গণভোটের রায়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ প্রধান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন সংসদে উল্লেখ করেছেন যে নির্বাচন বিলম্বিত না করার স্বার্থে বিএনপি ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ আপস করেছে। তাঁর মতে, এই বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার—সনদের চেয়ে দ্রুত ক্ষমতায় আরোহণই ছিল দলের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গঠনে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছিল, যাতে করে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে সুবিধা পাওয়া যায়। তাঁর ভাষায়, “ম্যানেজ ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যেই সেই প্রচারণা চালানো হয়েছিল।”
বক্তব্যের শেষাংশে রাশেদ প্রধান শ্রমিকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশ-বিদেশের শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই একই চেতনায় আবারও নতুন গণঅভ্যুত্থান গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আজকের এই মহান দিনে আমাদের শপথ নিতে হবে—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা আর কোনো নতুন ফ্যাসিবাদ বরদাস্ত করব না।”


