পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা ও পুদুচেরির নির্বাচনের ফল আজ প্রকাশিত হচ্ছে। তিনটি বিরোধী শাসিত রাজ্য দখলের লড়াই হওয়ায় এই নির্বাচন ইন্ডিয়া ব্লক (INDIA Bloc)-এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ ধীরে ধীরে বিভিন্ন রাজ্যে নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব হারাচ্ছে তারা।
সবচেয়ে বেশি নজর এখন পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)-এ। রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-কে সরিয়ে ক্ষমতা দখলে এবার মরিয়া বিজেপি (BJP)। বুথফেরত বেশির ভাগ জরিপেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, তৃণমূলকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে পারে বিজেপি। তবে শেষ কথা বলবে আজকের ফল। পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, কার হাতে যাচ্ছে রাজ্যের চাবি।
অনলাইন এনডিটিভির সর্বশেষ প্রবণতা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে। তামিলনাড়ুতে দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগম বা ডিএমকে এগিয়ে। কেরালায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা ইউডিএফ প্রাথমিকভাবে এগিয়ে আছে। আসামে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে রয়েছে। আর পুদুচেরিতে মুখ্যমন্ত্রী এন রঙ্গাসামির অল ইন্ডিয়া এন আর কংগ্রেস বা এআইএনআরসি এগিয়ে।
বিজেপির কাছে পশ্চিমবঙ্গই প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য। গত এক দশক ধরে সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দলটির তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত চলছে। নির্বাচনের বড় ইস্যুগুলোর মধ্যে ছিল দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রশ্ন। বেশির ভাগ এক্সিট পোল বিজেপির জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিল।
তামিলনাড়ুতে বিরোধী শাসিত রাজ্যে ডিএমকে-কংগ্রেস জোট টানা দ্বিতীয়বার জয় পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অভিনেতা বিজয়ের নতুন দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম বা টিভিকে ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তামিলনাড়ুতে জয় কংগ্রেসের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিভিন্ন রাজ্যে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে দলটি লড়াই করছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন আগেই জানিয়েছেন, সরকার গঠনে কংগ্রেসের বড় ভূমিকা নাও থাকতে পারে।
কেরালায় জয়ের আশা করছে কংগ্রেস। গতবার সেখানে পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বে বাম সরকার টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরেছিল। এবারের নির্বাচনকে বিজয়নের নেতৃত্বের ওপর এক ধরনের গণভোট হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বামফ্রন্ট হারলে ১৯৭৭ সালের পর প্রথমবারের মতো তারা সারা দেশে ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা হারিয়েছে তারা।
আসামে বিজেপির সম্ভাব্য তৃতীয় মেয়াদ এবং মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দ্বিতীয় মেয়াদ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে বড় পরীক্ষা হলো, দলটি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় কি না। ২০১৬ ও ২০২১ সালে বিজেপি অসম গণ পরিষদের সঙ্গে জোট করে জয় পেয়েছিল।
কংগ্রেস এবং রাজ্য সভাপতি গৌরব গগৈয়ের জন্যও এটি বড় পরীক্ষা। নির্বাচনের আগে বিজেপি তার বিরুদ্ধে ‘আইএসআই সমর্থন’-এর অভিযোগ তোলে। পাল্টা কংগ্রেস হিমন্ত শর্মার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনে।
পুদুচেরিতে এন রঙ্গাসামির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স বা এনডিএ টানা দ্বিতীয়বার জয়ের আশা করছে। তবে বিজয়ের টিভিকে দল বহু আসনে ত্রিমুখী লড়াই তৈরি করে ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
আজ পাঁচটি রাজ্যের সাতটি উপনির্বাচনের গণনাও চলছে। এগুলো হলো গুজরাটের উমরেথ, কর্ণাটকের বাগালকোট ও দাবানাগেরে সাউথ, মহারাষ্ট্রের রাহুরি ও বারামতি, নাগাল্যান্ডের কোরিডাং এবং ত্রিপুরার ধর্মনগর।


