গাজার ধ্বংসযজ্ঞের ছবি তুলে পুলিৎজার জিতলেন সাহের আলঘোরা, আলোচনায় যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতা

চলতি বছরের সম্মানজনক পুলিৎজার পুরস্কার (Pulitzer Prize) জিতেছেন ফিলিস্তিনি আলোকচিত্রী সাহের আলঘোরা (Saher Alghorra)। গাজায় ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক সংকটের হৃদয়বিদারক চিত্র তুলে ধরে ‘ব্রেকিং নিউজ’ বিভাগে এই স্বীকৃতি অর্জন করেন তিনি। সোমবার (৪ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলার দীর্ঘ ছায়া এখনো কাটেনি। ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী ছোট এই ভূখণ্ডে অব্যাহত বোমাবর্ষণে একসময়কার জনবসতি পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। লক্ষাধিক মানুষ হতাহত হয়েছেন, আর ২০ লক্ষাধিক মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতির বাস্তব ছবি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস (The New York Times)-এর সঙ্গে যুক্ত সাহের আলঘোরা। তার ক্যামেরায় ধরা পড়েছে ধ্বংসস্তূপ, দুর্ভিক্ষ, আতঙ্ক আর বেঁচে থাকার সংগ্রামে লড়াই করা সাধারণ মানুষের করুণ বাস্তবতা।

পুলিৎজার বোর্ডের প্রশাসক মারজোরি মিলার এসব ছবিকে ‘মর্মান্তিক’ ও ‘সংবেদনশীল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পুরস্কার ঘোষণার সময় তিনি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ধরে রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

সাহেরের পুরস্কারজয়ী প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘ট্র্যাপড ইন গাজা: বিটুইন ফায়ার অ্যান্ড ফ্যামিন’। এই প্রতিবেদনে যুদ্ধের মাঝখানে আটকা পড়া নিরীহ বেসামরিক মানুষের দুর্দশা গভীরভাবে ফুটে উঠেছে—যেখানে প্রতিটি ফ্রেম যেন একেকটি নীরব আর্তনাদ।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন করে ‘ন্যাশনাল রিপোর্টিং’ বিভাগে পুলিৎজার জিতেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters)। একইসঙ্গে ‘বিট রিপোর্টিং’ বিভাগেও পুরস্কার পেয়েছে সংস্থাটি।

এই বিভাগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বৃহৎ প্রতিষ্ঠান মেটা (Meta)-এর ভূমিকা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিশেষভাবে আলোচিত হয়, যেখানে শিশু ও ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর এআই চ্যাটবট এবং প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের সংস্পর্শে আনার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

চলতি বছর বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার জিতেছে একাধিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম। এর মধ্যে নিউইয়র্ক টাইমস তিনটি বিভাগে জয়ী হয়েছে। এছাড়া ওয়াশিংটন পোস্ট (The Washington Post), কানেটিকাট মিরর, শিকাগো ট্রিবিউন এবং এপিও উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি পেয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯১৭ সাল থেকে প্রদান করা হয়ে আসা এই পুরস্কারকে সাংবাদিকতার ‘নোবেল’ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্য, সংগীত ও নাট্যশিল্পেও অবদানের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হয়। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি (Columbia University)-এর একটি বোর্ড প্রতি বছর এই পুরস্কার ঘোষণা করে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড