তামিলনাড়ুর নির্বাচনে থালাপতি বিজয়ের ঝড়, চালকের ছেলের অভাবনীয় জয়

ভারতের তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে এক অভিনব রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে পা রাখা থালাপতি বিজয়ের অভিষেক যেন একেবারেই সুপারহিট। তার গড়া দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) এই নির্বাচনে এমন এক উত্থান ঘটিয়েছে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

হাতে ১০৭টি আসন নিয়ে বিজয় এবং তার দল এখন সরকার গঠনের একেবারে কাছাকাছি অবস্থানে। দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর মাঝে টিভিকের এই শক্তিশালী অবস্থান অনেককেই বিস্মিত করেছে। রাজনীতির মঞ্চে নতুন হলেও বিজয়ের জনপ্রিয়তা যে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এই ফলাফল যেন তারই স্পষ্ট প্রমাণ।

এই নির্বাচনে আরেকটি চমকপ্রদ গল্প লিখেছেন ৩০ বছর বয়সী সাবারিনাথন। তামিলনাড়ুর বিরুগামবাক্কম আসনে জয়ী হয়ে তিনি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। সাবারিনাথন শুধু একজন তরুণ প্রার্থী নন, তিনি অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়ের দীর্ঘদিনের গাড়িচালক ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী রাজেন্দ্রনের ছেলে—এই পরিচয়ই তাকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, সাবারিনাথন বিজয়ের প্রথম ছবি ‘নালাইয়া থিরপু’ থেকেই তার সঙ্গে যুক্ত। সেই দীর্ঘ সম্পর্কের সূত্র ধরে রাজনীতির মঞ্চেও তার উত্থান ঘটে। এই নির্বাচনে তিনি ডিএমকের প্রভাকারা রাজা এবং এআইএডিএমকের বিরুগাই রভিকে পরাজিত করে ২৭ হাজার ৮৬ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।

প্রশংসাপত্র গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে সাবারিনাথনের কণ্ঠে ছিল আবেগ ও কৃতজ্ঞতার মিশেল। তিনি বলেন, এই জয়ে তিনি ভীষণ আনন্দিত এবং বিজয়ের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তার দাবি, এই ফলাফলের মাধ্যমে পুরোনো রাজনৈতিক প্রভাবের অবসান ঘটেছে।

তবে শুধু রাজনৈতিক প্রচার নয়, আবেগঘন একটি মুহূর্তও তার জনপ্রিয়তায় বড় ভূমিকা রেখেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় মঞ্চে দাঁড়িয়ে সাবারিনাথন কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। ঠিক সেই সময় বিজয় এগিয়ে এসে তার চোখের জল মুছে দিয়ে তাকে আলিঙ্গন করেন।

এই মানবিক দৃশ্যটি সমর্থকদের মনে গভীর ছাপ ফেলে। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন আলোচিত প্রার্থী, আর সেই আবেগই শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হয়ে তাকে এনে দেয় এই জয়।