মধ্যপ্রাচ্যে ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ দাবি ট্রাম্পের, ইরানকে দিলেন ‘স্মার্ট সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার বার্তা

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব নিয়ে নতুন করে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তিনি দাবি করেছেন, পুরো অঞ্চলে এখন যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ইরান (Iran)-এর সামরিক শক্তি কার্যত ভেঙে পড়েছে। তার ভাষায়, দেশটি এখন শুধু টিকে থাকার চেষ্টা করছে।

ট্রাম্প ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি ‘স্মার্ট সিদ্ধান্ত’ নেওয়া জরুরি, কারণ যুদ্ধ এড়ানোই সবার জন্য ভালো। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি যুদ্ধ না হতো, তবে ইরান পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য বিস্তার করতে পারত। এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে—তেহরানকে বাঁচার লড়াইয়ে নামতে হয়েছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে ট্রাম্প দৃঢ় ভাষায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন অবস্থানে রয়েছে যেখানে তারা পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে। তার মতে, এই অবরোধ একটি ‘ইস্পাতের দেয়াল’-এর মতো কাজ করছে, যা ভাঙার সাহস কেউ পাবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই কৌশল অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া (South Korea)-এর একটি জাহাজে সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ট্রাম্প জানান, জাহাজটিতে গু’\লি চালানো হয়েছিল। তবে সেটি একা চলছিল এবং মার্কিন নৌবাহিনীর সুরক্ষিত বহরের অংশ ছিল না।

ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, তেহরান একদিকে সম্মান দেখিয়ে কথা বলে, অন্যদিকে গণমাধ্যমে ভিন্ন বক্তব্য দেয়। তার কথায়, ‘ইরান চুক্তি করতে চায়, কিন্তু তারা দ্বিমুখী আচরণ করছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, যখন একটি দেশের সামরিক শক্তি ধ্বংস হয়ে যায়, তখন চুক্তি ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না—এটাই বাস্তবতা।

অর্থনৈতিক চাপের বিষয়েও ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, তিনি চান ইরানের অর্থনীতি ব্যর্থ হোক, কারণ সেটিই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত জয়ের অংশ। তার দাবি, ইতোমধ্যেই ইরানের অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent)-এর ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বলেন, এত কঠোর নিষেধাজ্ঞা আগে কখনো দেখা যায়নি।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের মুদ্রা কার্যত মূল্যহীন হয়ে পড়েছে এবং দেশটির মুদ্রাস্ফীতি ১৫০ শতাংশেরও বেশি হতে পারে।

শেষে তিনি বলেন, ‘ইরানের উচিত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। আমরা গিয়ে মানুষ মারতে চাই না, কিন্তু পরিস্থিতি আমাদের হাতে।’ তার এই মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়াবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।