কাতারের একটি মার্কিন পরিচালিত শরণার্থীশিবিরে থাকা ১৪ বছর বয়সি এক আফগান কিশোরী যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের (Melania Trump) কাছে আবেগঘন আবেদন জানিয়েছেন। জাহরা নামের ওই কিশোরী তার বার্তায় বলেছেন, তারা বড় কিছু চান না—শুধু নিরাপদ জীবন, শিক্ষার সুযোগ এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের একটি পথ চান।
জাহরা গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে কাতারের (Qatar) দোহা শহরের বাইরে অবস্থিত ‘আস সাইলিয়াহ’ ক্যাম্পে বসবাস করছেন। তার বাবা ছিলেন আফগান সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা। ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান ক্ষমতা দখলের আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছেন। কিন্তু আফগান সরকার পতনের পর জাহরা ও তার পরিবারের জীবন পড়ে যায় গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে।
বর্তমানে ওই শিবিরে প্রায় এক হাজার ১০০ আফগান আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন। তাদের অনেকেই ন্যাটো মিশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনের একটি কর্মসূচি স্থগিত হওয়ায় তাদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে (Congo) স্থানান্তরের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। এই সম্ভাবনার কথা শোনার পর শিবিরে থাকা মানুষদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
জাহরা তার ভিডিও বার্তায় বলেন, “আমরা বড় কিছু চাই না—শুধু শান্তিপূর্ণ জীবন, ভালো শিক্ষা এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ চাই।”
তিনি আরও অনুরোধ করেন, তার এই বার্তা যেন ফার্স্ট লেডির কাছে পৌঁছে। সংকটের এই সময়ে তাদের যেন ভুলে না যাওয়া হয়—এটাই তার আকুতি।
দুই মিনিটের ওই ভিডিওতে জাহরা নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত চার বছর ধরে তিনি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পাননি। তালেবান শাসনে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ হওয়ায় আগেই তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর শরণার্থীশিবিরে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার জীবন তার মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
জাহরা জানান, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে তাকে ওষুধও নিতে হচ্ছে। অল্প বয়সেই অনিশ্চয়তা, ভয়ের পরিবেশ আর ভবিষ্যৎহীন অপেক্ষা তার জীবনের বড় বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিবিরে থাকা অনেকেই মার্কিন সেনাবাহিনীর দোভাষী বা সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। এমনকি কিছু মার্কিন সেনাসদস্যের পরিবারও সেখানে অবস্থান করছে। আফগান পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের প্রধান শন ভ্যানডিভার (Shawn VanDiver) বলেন, “এসব মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের যু’\দ্ধকালীন মিত্র। তাদের তৃতীয় দেশে পাঠানো কোনো সমাধান নয়, বরং এটি তাদের ফেরত পাঠানোর একটি কৌশল।”
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে জাহরা জানিয়েছিলেন, ইরান-সংঘাতের প্রভাবেও শিবিরে আতঙ্ক বেড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র হা’\মলা’\র শব্দ ও ধ্বংসাবশেষ তাদের ভীত করে তুলেছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ভয় আরও গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা এখনো শিবিরবাসীদের জন্য স্বেচ্ছা পুনর্বাসনের বিকল্প খুঁজছে। আলোচনার সংবেদনশীলতার কারণে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে তৃতীয় দেশে স্থানান্তরকে তারা সম্ভাব্য সমাধানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করছে।


