শাহেদ ড্রোনের কাঁচামাল সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগ, ইরান-সংশ্লিষ্ট ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ইরানের সামরিক বাহিনীর জন্য অস্ত্র ও শাহেদ ড্রোন তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগ তুলে ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র (United States)। শনিবার (৯ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা (Al Jazeera)।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে চীনভিত্তিক ইউশিতা সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কোং লিমিটেড। ওয়াশিংটনের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ইরানের সেন্টার ফর ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজি কো-অপারেশনসের (সিআইটিসি) হয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে। মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সংস্থাটি ইরানের প্রযুক্তি ও অস্ত্র সংগ্রহ কার্যক্রম সমন্বয় করে থাকে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষ আরও অভিযোগ করেছে, এই নেটওয়ার্ক চীন থেকে ম্যান-পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে দুবাইভিত্তিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এফজেডসিও-ও। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ইরানের অস্ত্র সংগ্রহ কার্যক্রমে সহায়তা করতে হংকংভিত্তিক এই ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কোং লিমিটেডের কাছে কয়েক মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করেছে।

এ ছাড়া হংকংয়ের এইচকে হেসিন ইন্ডাস্ট্রি কোং লিমিটেড এবং বেলারুশভিত্তিক আর্মরি অ্যালায়েন্স এলএলসির বিরুদ্ধেও ইরানের অস্ত্র সংগ্রহে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বেলারুশে অবস্থানরত ইরানি নাগরিক মোহাম্মদ মাহদী মালেকি, যিনি আর্মরি অ্যালায়েন্সের কর্মী হিসেবে পরিচিত, তাকেও এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী তোলিবভকে ইরানের দীর্ঘদিনের অস্ত্র সংগ্রহ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরেক হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মাস্টাড লিমিটেডের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড কোরের জন্য কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র কেনাবেচার আর্থিক লেনদেন সহজ করেছে।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এসব নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানের ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ নেটওয়ার্ককে দুর্বল করে দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক অস্ত্র সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন সৃষ্টি করা।

সূত্র: আল জাজিরা