অজ্ঞান হওয়ার আগেই সতর্ক করবে স্মার্টওয়াচ, দাবি দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকদের

হার্ট রেট, ঘুমের মান, রক্তচাপ কিংবা শরীরচর্চার তথ্য পর্যবেক্ষণের পর এবার অজ্ঞান হওয়ার আগাম সংকেতও দিতে পারে স্মার্টওয়াচ। দক্ষিণ কোরিয়ায় পরিচালিত এক নতুন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, অজ্ঞান হওয়ার কয়েক মিনিট আগেই ব্যবহারকারীকে সতর্ক করতে সক্ষম হতে পারে এই প্রযুক্তি।

গবেষকরা বলছেন, এমন আগাম সতর্কতা মানুষকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ অজ্ঞান হওয়ার আগে সতর্কবার্তা পেলে কেউ সময়মতো বসে পড়তে, নিরাপদ স্থানে যেতে কিংবা আশপাশের মানুষের সহায়তা নিতে পারবেন।

চুং-আং ইউনিভার্সিটি গুয়াংমিয়ং হাসপাতাল (Chung-Ang University Gwangmyeong Hospital)-এর অধ্যাপক জুনহওয়ান চো (Junhwan Cho) বলেন, আগাম সংকেত রোগীদের সম্ভাব্য আঘাত বা দুর্ঘটনা এড়াতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে হঠাৎ পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত বা হাড় ভাঙার মতো ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকরা হাসপাতালটির সঙ্গে যৌথভাবে এই গবেষণা পরিচালনা করেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ‘ভ্যাসোভ্যাগাল সিনকোপ’ নামে পরিচিত একটি শারীরিক সমস্যাকে শনাক্ত করা।

ভ্যাসোভ্যাগাল সিনকোপ এমন একটি অবস্থা, যেখানে হঠাৎ হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ কমে যাওয়ার কারণে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ভয়, ব্যথা বা প্রবল আবেগের কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

গবেষকদের দাবি, এটি বিশ্বের প্রথম সফল গবেষণা যেখানে একটি বাণিজ্যিক স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করে অজ্ঞান হওয়ার আগাম পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয়েছে। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নাল ডিজিটাল হেলথ (European Heart Journal Digital Health)-এ।

গবেষণায় ব্যবহার করা হয় স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াচ ৬ (Samsung Galaxy Watch 6)। স্মার্টওয়াচটির ফটোপ্লেথিসমোগ্রাফি বা পিপিজি সেন্সরের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের হার্ট রেট ভ্যারিয়েবিলিটি এবং শরীরের বিভিন্ন বায়োসিগন্যাল পর্যবেক্ষণ করা হয়।

গবেষণায় মোট ১৩২ জন অংশ নেন, যাদের মধ্যে ভ্যাসোভ্যাগাল সিনকোপের উপসর্গ ছিল বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষার সময় সংগ্রহ করা তথ্য পরে এআইভিত্তিক একটি প্রেডিকশন মডেলের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, পুরো সিস্টেমটির নির্ভুলতার হার ছিল প্রায় ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়া মডেলটির সেনসিটিভিটি ছিল ৯০ শতাংশ এবং স্পেসিফিসিটি ছিল ৬৪ শতাংশ।

চিকিৎসকদের মতে, ভ্যাসোভ্যাগাল সিনকোপ সবসময় প্রাণঘাতী না হলেও হঠাৎ পড়ে গিয়ে গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি তৈরি করে। অনেক ক্ষেত্রে মাথায় আঘাত, হাড় ভাঙা কিংবা কনকাশনের মতো জটিল সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।