কন্যাসন্তানের মা হয়েছেন ক্যারোলিন লেভিট (Karoline Leavitt), হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র। নবজাতক কন্যাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনন্দ ভাগাভাগি করলেও সেই শুভক্ষণেই তাকে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান (Iran)। অভিনন্দনের পাশাপাশি তেহরানের মিনাবে একটি স্কুলে চালানো ভয়াবহ হামলার প্রসঙ্গ টেনে লেভিটের সমালোচনা করেছে দেশটি। খবর এনডিটিভির।
গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) নিজের দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের খবর প্রকাশ করেন ক্যারোলিন লেভিট। তার কন্যাসন্তানের নাম রাখা হয়েছে ভিভিয়ানা, ডাকনাম ভিভি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, নবজাতক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে আছেন তিনি।
বার্তায় লেভিট লেখেন, “পহেলা মে, ভিভিয়ানা ওরফে ভিভি আমাদের পরিবারে যোগ দিয়েছে এবং আমাদের হৃদয় ভালোবাসায় ভরে উঠেছে। সে সুস্থ আছে এবং তার বড় ভাই আনন্দের সাথে তার নতুন ছোট বোনের সাথে মানিয়ে নিচ্ছে। আমরা আমাদের এই আনন্দময় নবজাতকের বলয়ে প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি।”
তবে শুভেচ্ছা জানানোর মধ্যেই কড়া সমালোচনার সুর তোলে তেহরান। আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিখেছে, “আপনাকে অভিনন্দন। শিশুরা নিষ্পাপ ও ভালোবাসার যোগ্য। আপনার বস মিনাবের স্কুলে যে ১৬৮ জন শিশুকে হ’\ত্যা করেছেন এবং আপনি যার ন্যায্যতা দিয়েছেন, তারাও শিশু ছিল। আপনি যখন আপনার শিশুকে চুম্বন করেন, তখন সেই শিশুদের মায়েদের কথা ভাবুন।”
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো হামলায় ৭৩ জন ছেলেশিশু ও ৪৭ জন মেয়েশিশু নি’\হত হয়। এছাড়া ২৬ জন শিক্ষক, সাতজন অভিভাবক, একজন স্কুলবাস চালক এবং পাশের একটি ক্লিনিকের একজন ফার্মেসি টেকনিশিয়ানও ওই হামলায় প্রাণ হারান।
ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও ইসরায়েল (Israel) যৌথভাবে ইরানজুড়ে হামলা শুরু করার দিনই মিনাবের ওই হামলা চালানো হয়েছিল। এর প্রতিশোধ হিসেবে পরে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান।
সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আইআরআইবি তাদের টেলিগ্রাম পোস্টে হামলার ভয়াবহতার বিস্তারিত তুলে ধরে।
এদিকে, গত মার্চে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব হিসেবে ক্যারোলিন লেভিট বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না। তিনি দাবি করেছিলেন, বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ তদন্ত করছে এবং বেসামরিক নাগরিক ও শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করে ইরানের শাসকগোষ্ঠী, যুক্তরাষ্ট্র নয়।
তবে পরে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে লক্ষ্য নির্ধারণে ভুলের কারণে একটি মার্কিন টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ওই বিদ্যালয়ে আঘাত হানে।
যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রথমদিকে ওই ঘটনার জন্য ইরানকেই দায়ী করেছিলেন। অথচ ইরানের হাতে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


