মহাবিশ্বের খাদ্যশৃঙ্খলে মানুষ শীর্ষে নাও থাকতে পারে, দাবি হার্ভার্ড অধ্যাপক আভি লোয়েবের

মহাবিশ্বের খাদ্যশৃঙ্খলে মানুষ সম্ভবত সবার ওপরে নেই—এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েন নিয়ে গবেষণাকারী হার্ভার্ড (Harvard)-এর অধ্যাপক আভি লোয়েব (Avi Loeb)। তাঁর মতে, ভিনগ্রহ থেকে কেউ যদি পৃথিবীতে আসে, তবে ধরে নিতে হবে তারা মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ‘দক্ষ’ এবং ‘উন্নত’।

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) যখন সরকারি ভল্ট থেকে ইউএফও বা ‘উড়ন্ত সসার’ সংক্রান্ত গোপন ফাইলগুলো জনসমক্ষে আনার নির্দেশ দিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়েই এমন মন্তব্য করলেন এই বিজ্ঞানী।

আভি লোয়েব ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তিনি ভিনগ্রহের প্রাণীদের বিষয়ে থাকা সব গোপন তথ্য প্রকাশ করে দেন। তাঁর মতে, মহাজাগতিক এসব ‘ভাই-বোনদের’ কাছ থেকে মানুষ আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে অনেক কিছু শিখতে পারে।

অধ্যাপক লোয়েব বলেন, “মহাজাগতিক প্রেক্ষাপটে চিন্তা করলে আমরা সম্ভবত খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষে নেই। শুধুমাত্র মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি (Milky Way Galaxy)-তেই ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি নক্ষত্র রয়েছে। আমাদের উচিত আমাদের জীবনকে একটি শেখার অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখা—বিশেষ করে আমাদের প্রতিবেশী কেউ আমাদের এখানে আসছে কিনা, সে বিষয়ে।”

তিনি আরও বলেন, “তারা যদি এখানে আসে, তবে আমাদের বর্তমান জ্ঞানের চেয়েও অনেক উন্নত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে আমরা জানতে পারব। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি থেকে আমরা মাত্র এক শতাব্দী ধরে সুবিধা পাচ্ছি। তাতেই আমাদের হাতে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তি রয়েছে। তবে ভিনগ্রহের কোনো দর্শনার্থীর সন্ধান পাওয়া মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য আরও বেশি প্রভাবশালী হতে পারে।”

ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাঁর প্রশাসন ভিনগ্রহের প্রাণী নিয়ে যা যা খুঁজে পেয়েছে, তা জনগণের সামনে প্রকাশ করবে। আভি লোয়েব বিশ্বাস করেন, যদি এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তা মানুষকে আরও ভালো কিছু করতে অনুপ্রাণিত করবে।

তিনি যোগ করেন, “যদি তাদের কাছে এমন কোনো প্রমাণ থাকে, তবে তা হবে অসাধারণ। এটি আমার জীবনের পাশাপাশি পুরো প্রজন্মের জন্য সার্থকতা বয়ে আনবে। এটি মানবজাতির অগ্রাধিকার বদলে দেবে এবং আমাদের আরও উন্নত স্থানে নিয়ে যাবে। বিষয়টি অনেকটা এমন যে, আপনি হঠাৎ জানতে পারলেন আপনার এমন একজন ভাই বা বোন আছে, যে আপনার চেয়ে অনেক বেশি গুণী ও সফল।”

তবে ভিনগ্রহের প্রাণী পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, সরকার হয়তো সব সত্য প্রকাশ করবে না। তাত্ত্বিক পদার্থবিদ আভি লোয়েবের ধারণা, তথ্যগুলো কয়েক ধাপে প্রকাশিত হবে এবং শুরুটা হতে পারে ভিডিও ফাইলের মাধ্যমে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “প্রথম ধাপেই সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া যাবে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। কারণ উপগ্রহ বা অন্য উৎস থেকে পাওয়া কিছু তথ্য হয়তো গোপন সেন্সর দিয়ে সংগ্রহ করা হয়েছে, যা শত্রুপক্ষকে জানতে না দিতে সরকার সেগুলো এখনই প্রকাশ করবে না। তবে সেখানে কিছু থাকলে আমাদের সবারই তা জানা উচিত।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, “যদি ট্রাম্প চান যে সরকার এসব রহস্য উন্মোচন করুক, তবে আমি সাড়া দিতে প্রস্তুত। আমরা যদি মানুষের তৈরি নয় এমন প্রযুক্তিসম্পন্ন ১০ লাখ বস্তুর মধ্যে একটিও খুঁজে পাই, তবে তা হবে মানব ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিহাসে সেই ব্যক্তি হিসেবে অমর হয়ে থাকবেন, যিনি বিজ্ঞানী সমাজকে এ সত্য জানার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।”