খুলনায় কোরবানির পশু চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি, কমতে পারে দাম

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে খুলনা (Khulna) বিভাগে কোরবানির পশুর সরবরাহ নিয়ে স্বস্তির তথ্য দিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (Department of Livestock Services)। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, এ বছর বিভাগে কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় মজুত অনেক বেশি থাকায় বাজারে দাম কিছুটা কমে আসতে পারে।

খুলনা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. গোলাম হায়দার জানিয়েছেন, এ বছর বিভাগে কোরবানির পশুর চাহিদা ধরা হয়েছে ১০ লাখ ৭৯ হাজার। এর বিপরীতে বর্তমানে মজুত রয়েছে ১৪ লাখ ৪৬ হাজার পশু। গত বছর যেখানে চাহিদা ছিল আট লাখ ২৯ হাজার, সেখানে এবার স্থানীয় খামারিদের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে জানান তিনি।

রোববার গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পশু দিয়েই এবার কোরবানির শতভাগ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। ফলে অন্য জেলা থেকে পশু আনার প্রয়োজন হবে না। বিভাগের ১০টি জেলা এবং খুলনা শহরের অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে বিপুল সংখ্যক পশু সরবরাহ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২১ মে খুলনা বিভাগে কোরবানির পশুরহাট উদ্বোধনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নগরীর জোড়াগেট (Joragate) এলাকায় হাট প্রস্তুতের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন (Khulna City Corporation)। হাট উদ্বোধন করবেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। রোববার কেসিসির বাজার শাখার কর্মকর্তা শেখ শফিকুল হাসান দিদার এ তথ্য জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত পশুর মধ্যে রয়েছে এক লাখ ৩০ হাজার ৪২৭টি ষাঁড়, ৩২ হাজার বলদ, ৮২ হাজার ৩০২টি বকনা ও গাই, ৪ হাজার ৮৯টি মহিষ, ৮ লাখ ৫১ হাজার ৩৭০টি ছাগল, ৫১ হাজার ১৭৩টি ভেড়া এবং অন্যান্য ২১৬টি পশু।

তবে মাঠপর্যায়ের খামারিরা বলছেন, উৎপাদন বাড়লেও খরচও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। আড়ংঘাটা থানার তেলিগাতী গ্রামের খামারি ওলিয়ার রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিল ডাকাতিয়া এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকায় গরুর খাবার বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়েছে। এতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। সেই দিক বিবেচনায় গরুর দাম বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, পশুর হাট পরিচালনায় এবারও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছে কেসিসি। কেসিসির কর্মকর্তা দিদার জানান, হাট ইজারার জন্য চার দফা দরপত্র আহ্বান করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে কেসিসি সরাসরি তত্ত্বাবধানে হাট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে কেসিসি সচিব (ভারপ্রাপ্ত) রহিমা খাতুন বুশরাকে আহ্বায়ক এবং শেখ শফিকুল হাসান দিদারকে সদস্য সচিব করে ৩২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।