‘লন্ডনের পর্যটক’ পরিচয়ে ফেসবুকে ফাঁদ, ৯৫ হাজার পাউন্ডের প্রলোভনে ঠিকাদারের ১.২৩ লাখ রুপি খোয়া

ভারতের গোয়ালিয়র (Gwalior) শহরে ফেসবুকের পরিচয় থেকে শুরু হওয়া এক সাইবার প্রতারণার ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এক ঠিকাদার। ‘লন্ডনের পর্যটক’ পরিচয়ে এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগের পর তাকে ৯৫ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড দেয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। সেই টাকার ভারতীয় মূল্য প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ রুপি—এমন দাবি করে শেষ পর্যন্ত তার কাছ থেকে ১ লাখ ২৩ হাজার রুপি হাতিয়ে নেয় একটি প্রতারক চক্র। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি (NDTV)।

পুলিশ জানিয়েছে, হরিশঙ্করপুরম এলাকার ঠিকাদার কমলকান্ত যাদব (Kamalkant Yadav) ছিলেন এই চক্রের টার্গেট। প্রতারকরা প্রথমে ফেসবুকে ‘লাকি চার্লস’ নামে তার সঙ্গে পরিচয় তৈরি করে। পরে ‘ডক্টর প্যাট্রিসিয়া’ নামে কথোপকথন চালিয়ে যায়। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৪ এপ্রিল তাদের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়।

ওই নারী দাবি করেন, তিনি লন্ডন (London) থেকে ভারতে আসবেন এবং তার কাছে রয়েছে ৯৫ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড। ভারত সফরের সময় এই অর্থ ভারতীয় মুদ্রায় রূপান্তর করতে কমলকান্ত যাদবের সহায়তা প্রয়োজন বলে জানানো হয়। বিনিময়ে তাকে কমিশন ও দামি উপহার দেয়ার আশ্বাসও দেয়া হয়। শুরুতে বিষয়টি আকর্ষণীয় মনে হলেও, সেখান থেকেই তৈরি হতে থাকে প্রতারণার জাল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ এপ্রিল ঘটনাটি আরও এক ধাপ এগোয়। ওই দিন যাদবের কাছে আরেক নারী ফোন করেন। তিনি নিজেকে মুম্বই বিমানবন্দর (Mumbai Airport)-এর কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেন। ফোনকারী দাবি করেন, বিদেশি মুদ্রা ছাড় করার আগে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধ করা জরুরি।

বিষয়টি সত্য ধরে নিয়ে কমলকান্ত যাদব প্রথমে ‘রেজিস্ট্রেশন ফি’ হিসেবে ৩৮ হাজার ৫০০ রুপি পাঠান। এরপর আরও কিছু প্রক্রিয়াগত খরচের কথা বলা হয়। নানা অজুহাতে তাকে বারবার টাকা পাঠাতে রাজি করানো হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এভাবে তিনি একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার রুপি পাঠান।

তবে প্রতারকরা যখন আরও ৭০ হাজার রুপি দাবি করে, তখন যাদবের সন্দেহ হয়। পরে তিনি সাইবার হেল্পলাইন ১৯৩০ নম্বরে যোগাযোগ করেন এবং অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ঝাঁসি রোড থানা (Jhansi Road Police Station)-এ অজ্ঞাত পরিচয়ের অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ই-জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।