দেশের সংখ্যালঘুদের জানমাল ও নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ (Kazi Shah Mofazzal Hossain Kaikobad)। সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো ধরনের অত্যাচার বা নির্যাতন তিনি বরদাশত করবেন না। এমনকি এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজন হলে নিজের মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিতেও তিনি দ্বিধা করবেন না বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী ভারত (India)-এ সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের বিষয়কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশে কেউ যেন অস্থিতিশীলতা তৈরির সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দেশের ভেতরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় ধর্মমন্ত্রী হজ ব্যবস্থাপনা ও ব্যয় কমানোর বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, চলতি বছর হজের খরচ কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-র ঘোষণা অনুযায়ী আগামী হজ মৌসুমে এই ব্যয় আরও কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জন্য হজ পালন আরও সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সেবামূলক উদ্যোগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী দাবি করেন, একটি মহল সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড সহ্য করতে পারছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণে বহু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যা সরাসরি মানুষের উপকারে আসছে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ব্যাহত করতে সক্রিয় রয়েছে। বিরোধী দল সরকারকে চাপে ফেলতে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যারা দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে রয়েছে, মূলত তারাই এই অপতৎপরতার সঙ্গে জড়িত বলে তার দাবি।
বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গুজব ছড়িয়ে অরাজকতা তৈরির অপচেষ্টা সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের সফলতায় ঈর্ষান্বিত কিছু গোষ্ঠী দেশের স্থিতিশীল পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
এছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (Digital Security Act)-এর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে এই আইনের প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। অপপ্রচার বন্ধ করা এবং নিরপরাধ ও ভালো মানুষের ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষায় আইনটি কার্যকর ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি মনে করেন।
সামগ্রিকভাবে দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বলে সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেন ধর্মমন্ত্রী।
