ইরানের বিরুদ্ধে গোপন সামরিক হা’\মলায় জড়িত ইউএই? ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে নতুন আলোড়ন #ইরান #ইউএই #ইসরাইল #ডোনাল্ড_ট্রাম্প #মধ্যপ্রাচ্য #ওয়াল_স্ট্রিট_জার্নাল

ইরানের ওপর গোপনে সামরিক হা’\মলা চালিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত— এমন দাবি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (The Wall Street Journal)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশ নেওয়া একমাত্র আরব দেশ হিসেবে এবার উঠে এসেছে আমিরাতের নাম।

সোমবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়, গত এপ্রিলের শুরুতে ইরানের একাধিক স্থাপনায় গোপন হা’\মলা চালানো হয়। এর মধ্যে পারস্য উপসাগরের লাভান দ্বীপে অবস্থিত একটি তেল শোধনাগারও ছিল অন্যতম লক্ষ্যবস্তু।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে বিতর্কিত এই হা’\মলাটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণার আগে হয়েছিল নাকি পরে— সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হা’\মলার পর ইরান একটি নির্দিষ্ট স্থাপনায় “অজ্ঞাত শত্রুর” আ’\ক্রমণের কথা জানিয়েছিল। একইসঙ্গে প্রতিক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হা’\মলার কথাও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

যদিও পুরো যুদ্ধে আমিরাতের সম্পৃক্ততার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি, তবুও লাভান দ্বীপে চালানো অভিযানের ঘটনাকে দেশটির সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, উপসাগরীয় অন্য দেশগুলো যুদ্ধে সরাসরি জড়াতে অনীহা দেখানোর পর ওয়াশিংটন আবুধাবির অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছিল।

তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত (United Arab Emirates)-এর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা আগের এক বিবৃতির উল্লেখ করে জানিয়েছে, ইরানের হা’\মলার জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। একইভাবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনও বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে গেছে।

এর আগে গত মার্চেও কয়েকটি ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, উপসাগরীয় অঞ্চলে তেহরানের হা’\মলার জবাবে ইরানের একটি পানি শোধনাগার প্ল্যান্টে আ’\ক্রমণ চালিয়েছিল আমিরাত। যদিও সে সময় আবুধাবি সেই অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দেয়। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সেই ঘটনার নতুন কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

যুদ্ধ চলাকালে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হা’\মলা চালায়। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশটিতে প্রায় ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২০০টির বেশি ড্রোন হা’\মলা চালানো হয়েছিল। এতে অঞ্চলটির সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি হয়ে ওঠে আরব আমিরাত।

এ সময় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও হা’\মলার হুমকি দেয়। একইসঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি (Hormuz Strait) অবরোধেরও ইঙ্গিত দেয় তেহরান। যদিও অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছিল, তারপরও কয়েকটি হা’\মলায় সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অন্যদিকে ইসরাইল (Israel) দাবি করেছে, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করতেই যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে তারা এই সামরিক অভিযান চালিয়েছে। তবে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ওয়াশিংটনের ঘোষিত লক্ষ্য পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।