মাদকাসক্ত ছেলের নির্যাতনে অতিষ্ঠ পরিবার, হ’\ত্যা’\র জন্য খু’\নি ভাড়া করার অভিযোগ দম্পতির বিরুদ্ধে

মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচার, গালিগালাজ ও সহিংস আচরণে দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে হ’\ত্যা করার জন্য ভাড়াটে খু’\নি নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে ভারত (India)-এর উত্তর প্রদেশ (Uttar Pradesh) রাজ্যে। টাইমস অব ইন্ডিয়া (Times of India) অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাড়াটে খু’\নি’\কে অগ্রিম টাকা দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত ওই তরুণের মা নিজের জুয়েলারি পর্যন্ত বিক্রি করেছিলেন। পারিবারিক অশান্তি, মাদকাসক্তির চাপ এবং ঘরের ভেতর চলতে থাকা নির্যাতনের অভিযোগ শেষ পর্যন্ত এমন এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে গড়ায়, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে তীব্র আলোচনা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শনিবার সকালে উত্তর প্রদেশের আমরোহা জেলা (Amroha District)-র নাসিরপুর গ্রামের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী দুষ্যন্ত কুমার (Dushyant Kumar)-এর মৃতদেহ একটি বনাঞ্চলের কাছের শুকনো খাল থেকে উদ্ধার করা হয়। শুরুতে ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠলেও তদন্ত এগোতেই পুলিশের সন্দেহ ঘনীভূত হয় পরিবারের সদস্যদের দিকে।

পুলিশ জানায়, দুষ্যন্ত মাদকাসক্ত অবস্থায় প্রায়ই তার বয়স্ক বাবা-মাকে গালিগালাজ করতেন এবং মারধর করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকায় পরিবারটি মানসিকভাবে চরম চাপে ছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, এই নির্যাতন ও অস্থিরতার জেরেই পরিবারটি শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ ও চরম পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।

আমরোহা পুলিশ (Amroha Police) সুপার লাখান সিং যাদব বলেন, দুষ্যন্তের ছোট ভাই সংকিত এবং তাদের বাবা-মা পীতম সিং ও মায়া দেবী ভারতীয় মুদ্রায় পাঁচ লাখ রুপির বিনিময়ে দুষ্যন্তকে হ’\ত্যা করার জন্য যোগেন্দ্র নামে এক স্থানীয় সন্ত্রাসীকে ভাড়া করেন। পুলিশের দাবি, পরিকল্পনাটি আকস্মিক ছিল না; বরং পারিবারিক বিরোধ ও নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই বিষয়টি সাজানো হয়েছিল।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ভাড়াটে খু’\নি’\কে অগ্রিম টাকা দেওয়ার জন্য মায়া দেবী তার গয়না প্রায় ৫৫ হাজার রুপিতে বিক্রি করেন। এই তথ্য তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কারণ, এতে পুলিশের ধারণা আরও জোরালো হয়েছে যে পরিবারটি দুষ্যন্তকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনায় সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল।

তদন্তকারীদের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাতে যোগেন্দ্র ও তার সহযোগীরা সংকিতকে সঙ্গে নিয়ে দুষ্যন্তকে শ্বাসরোধ করে হ’\ত্যা করে। পরে তার মরদেহ একটি শুকনো খালে ফেলে দেওয়া হয়। পরদিন সকালে মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে এবং পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যে অসংগতি খুঁজে পায়।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় দুষ্যন্তের ছোট ভাই সংকিতের আচরণ ও কথাবার্তায় পুলিশের সন্দেহ হয়। পরবর্তী সময়ে তাকে তার বাবা পীতম সিংয়ের সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ এখন পুরো ঘটনার পেছনে কার কী ভূমিকা ছিল, অর্থ লেনদেন কীভাবে হয়েছে এবং যোগেন্দ্রসহ অন্য সহযোগীদের সংশ্লিষ্টতা কতটা—এসব দিক খতিয়ে দেখছে।