ট্রাম্পের চীন সফরে প্রযুক্তি ও ব্যবসা দুনিয়ার প্রভাবশালী মুখ, আলোচনায় ইতিহাসের বৃহত্তম বোয়িং চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর আসন্ন চীন সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও প্রযুক্তি অঙ্গনে বাড়ছে কৌতূহল। কারণ, এই সফরে তার সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন প্রযুক্তি ও ব্যবসা বিশ্বের একঝাঁক শীর্ষ নির্বাহী, যাদের উপস্থিতিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন বার্তা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সফরসঙ্গীদের তালিকায় রয়েছেন টেসলা (Tesla)-এর প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক, অ্যাপলের টিম কুক, জিই অ্যারোস্পেসের ল্যারি কাল্প এবং বোয়িংয়ের কেলি অর্টবার্গ।

এছাড়া সফরে অংশ নিচ্ছেন মেটা (Meta)-এর দিনা পাওয়েল ম্যাককর্মিক, ব্ল্যাকরকের ল্যারি ফিঙ্ক, ব্ল্যাকস্টোনের স্টিফেন সোয়ার্জম্যান এবং মাস্টারকার্ডের মাইকেল মিয়েবাখ। পাশাপাশি সিমন, কোয়ালকম ও ভিসার প্রধান নির্বাহীরাও এই সফরকারী প্রতিনিধিদলের অংশ হচ্ছেন।

তবে আমন্ত্রণ পেয়েও সফরে যোগ দিচ্ছেন না সিসকো (Cisco)-এর প্রধান নির্বাহী চাক রবিন্স। কোম্পানির চলমান ব্যাবসায়িক ব্যস্ততার কারণেই তার সফরে অনুপস্থিত থাকার কথা জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতের আরেক আলোচিত নাম এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াংকে এবারের সফরে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর কেবল কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজতর করতে নতুন কিছু ফোরাম গঠনের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ, মার্কিন কৃষিপণ্য এবং জ্বালানি আমদানির বিষয়ে বড় ধরনের ঘোষণা আসতে পারে চীনের পক্ষ থেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রায় ৫০০ বোয়িং উড়োজাহাজ, ৭৩৭ ম্যাক্স জেট এবং কয়েক ডজন ওয়াইডবডি জেট কেনার সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এই চুক্তি চূড়ান্ত হলে সেটি ইতিহাসের একক বৃহত্তম বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ অর্ডারগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।

বাণিজ্যিক চুক্তির বাইরেও দুই দেশের চলমান ‘বাণিজ্যযুদ্ধ’ বিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি সফরের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। এতে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রেয়ার আর্থ মিনারেলস বা বিরল খনিজ পদার্থ সরবরাহের পথ আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প ও শি জিনপিং (Xi Jinping)-এর শেষ বৈঠকে দুই দেশ বাণিজ্যযুদ্ধ স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছিল। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় এবারের সফরকে আরও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এবারের সফরে বিশেষভাবে কৃষি ও বাণিজ্যিক বিমান চলাচল খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের টানাপোড়েনপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে এই সফর নতুন সমঝোতা ও বড় বাণিজ্যিক অগ্রগতির ইঙ্গিত বহন করতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স