হজে কোন কোন ভুলে ‘দম’ ওয়াজিব হয়, জানুন গুরুত্বপূর্ণ বিধানগুলো

ইহরাম বাঁধার পর থেকেই হজের প্রতিটি ধাপ নির্দিষ্ট নিয়ম ও বিধান মেনে সম্পন্ন করতে হয়। হজের কোনো ওয়াজিব আমল ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ পড়ে গেলে, কিংবা ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কোনো কাজে জড়িয়ে পড়লে তার প্রতিকার হিসেবে ‘দম’ বা কুরবানি দেওয়া ওয়াজিব হয়ে যায়।

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, হজের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব কাজ রয়েছে। এসব আমল নির্ধারিত সময়ে যথাযথভাবে পালন না করলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পশু জবাই করতে হয়। তাই হজ পালনকারীদের জন্য এসব বিধান জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যেসব কারণে ‘দম’ ওয়াজিব হয়—

  1. সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ না করা
    সাফা (Safa) ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে সাতবার সাঈ করা হজের গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব আমল। এটি ছেড়ে দিলে দম ওয়াজিব হয়।

  2. মিকাত অতিক্রমের আগে ইহরাম না বাঁধা
    হজের নির্ধারিত সীমানা বা মিকাত পার হওয়ার আগে ইহরাম বাঁধা বাধ্যতামূলক। কেউ ইহরাম ছাড়া মিকাত অতিক্রম করলে তার ওপর দম ওয়াজিব হবে।

  3. আরাফাতের ময়দান থেকে আগে চলে আসা
    ৯ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাত (Arafat)-এর ময়দানে অবস্থান করা ওয়াজিব। সূর্যাস্তের আগেই সেখান থেকে বেরিয়ে গেলে দম দিতে হয়।

  4. মুজদালিফায় অবস্থান বাদ পড়া
    মুজদালিফায় রাতযাপন বা অবস্থানের ওয়াজিব আমল সম্পন্ন না করলে তার জন্যও দম ওয়াজিব হয়ে যায়।

  5. মিনায় রাতযাপন না করা
    মুজদালিফা থেকে ফেরার পর মিনা (Mina)-য় অন্তত দুই রাত অবস্থান করা জরুরি। এই আমল বাদ পড়লেও দম দিতে হয়।

  6. শয়তানকে কঙ্কর নিক্ষেপ না করা
    নির্ধারিত নিয়মে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের আমল সম্পন্ন না করলে হজের ওয়াজিব আদায় অসম্পূর্ণ থেকে যায় এবং দম ওয়াজিব হয়।

  7. হাদী বা কুরবানি আদায় না করা
    তামাত্তু ও কিরান হজ পালনকারীদের জন্য হজের কুরবানি আদায় করা বাধ্যতামূলক। এটি বাদ দিলে দমে শোকর আদায় করতে হয়।

  8. নির্ধারিত সময়ে চুল না কাটা
    হজের নির্ধারিত সময়ে মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছোট করা (হলক বা কসর) না করলেও দম ওয়াজিব হয়।

  9. বিদায়ী তাওয়াফ ছেড়ে যাওয়া
    মক্কার বাইরের হাজিদের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ করা আবশ্যক। মক্কা (Makkah) ত্যাগের আগে এটি সম্পন্ন না করলে দম দিতে হয়।

ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ করা শুধু গুনাহের বিষয়ই নয়, বরং তা হজের পূর্ণতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই হজের প্রতিটি আমল সতর্কতা, শুদ্ধতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে আদায় করা প্রয়োজন।