আদালতে হাজিরা ঘিরে জটিলতা, ভার্চ্যুয়াল শুনানি না থাকায় আটকে সুব্রত বাইনের অ’\স্ত্র মামলার সাক্ষ্য

ঢাকার অপরাধ জগতের বহুল আলোচিত নাম সুব্রত বাইন (Subrata Bain)। হ’\ত্যা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রা’\সী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে শীর্ষ সন্ত্রা’\সীর তালিকায় উঠে আসে তার নাম। এরপর দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থেকেও অনুসারীদের মাধ্যমে আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাব ধরে রাখতেন তিনি—এমন অভিযোগ বহুদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচিত।

দীর্ঘদিন আড়ালে থাকার পর ২০২৫ সালের ২৭শে মে সেনাবাহিনী (Bangladesh Army)-এর বিশেষ অভিযানে গ্রে’\প্তার হওয়ার পর আবারও আলোচনায় আসে এই শীর্ষ সন্ত্রা’\সীর নাম। তবে এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু তার অপরাধজগতের অতীত নয়, বরং আদালতে হাজিরা ঘিরে তৈরি হওয়া নতুন জটিলতা। নিরাপত্তা শঙ্কার কথা তুলে তাকে সরাসরি আদালতে না এনে ভার্চ্যুয়াল শুনানির আবেদন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। এর ফলে অ’\স্ত্র আইনের মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ কার্যক্রম কার্যত থমকে আছে।

আদালত সূত্র জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে চারটি ধার্য তারিখে সুব্রত বাইনসহ শীর্ষ চার সন্ত্রা’\সীকে আদালতে হাজির করা হয়নি। প্রতিটি ধার্য তারিখের আগেই কারা কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ভার্চ্যুয়ালি সাক্ষ্য গ্রহণের আবেদন করেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট আদালতে ভার্চ্যুয়াল শুনানির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় ছয় মাস ধরে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ এগোতে পারছে না।

সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট মাহফুজ হাসান মানবজমিনকে বলেন, ২০২৫ সালের ১৬ই নভেম্বর শীর্ষ সন্ত্রা’\সী সুব্রত বাইনের মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। সেদিন আদালতে চারজন সাক্ষীও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে নারায়ণগঞ্জ কারাগার (Narayanganj Jail)-এ থাকা এই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়নি।

তিনি জানান, পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভার্চ্যুয়াল শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে মোবাইলে সংযোগের চেষ্টা করা হলে আসামিপক্ষের আইনজীবী পূর্ণাঙ্গ ভার্চ্যুয়াল ডিভাইস স্থাপনের মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণের আবেদন জানান। এরপর আদালত শুনানির কার্যক্রম বন্ধ রাখেন।

রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবীর ভাষ্য, হাইকোর্ট (High Court)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী যেসব আসামিকে নিরাপত্তা বা অন্য কারণে আদালতে আনা যায় না, সেসব ক্ষেত্রে ভার্চ্যুয়াল শুনানির উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু মহানগর দায়রা জজ আদালত (Metropolitan Sessions Judge Court)-এ ভার্চ্যুয়াল শুনানির কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এই মামলাসহ আরও অনেক মামলার শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণ আটকে আছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, অ’\স্ত্র আইনের একটি মামলায় সুব্রত বাইনসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন ঢাকার মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫ (Dhaka Metropolitan Special Tribunal-15)-এর বিচারক ফাহমিদা জাহাঙ্গীর। গত বছরের ১৫ই অক্টোবর চার্জ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। একইসঙ্গে ১৬ই নভেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন—আবু রাসেল মাসুদ ওরফে মোল্লা মাসুদ, এম এ এস শরীফ এবং আরাফাত ইবনে নাসির।

তবে সাক্ষ্য গ্রহণের নির্ধারিত সময়ের আগেই আদালতে পাঠানো এক চিঠিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, সুব্রত বাইনকে আদালতে আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। ফলে তাকে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে আদালতে হাজির করার অনুমতি চাওয়া হয়। কিন্তু সেই অনুমতি বাস্তবায়নের মতো প্রযুক্তিগত কাঠামো আদালতে না থাকায় বিচারিক কার্যক্রমে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা।