জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা সাত বছরের মিনহাজকে দেখার পর শিশু ওয়ার্ডে শয্যা খালি আছে কি না, তা দেখে আসতে বলেন। পরিবারের অভিযোগ, ঠিক সেই সময়েই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (Dhaka Medical College Hospital)-এর কর্মচারী এনায়েত করিমের সঙ্গে তাদের দেখা হয়। তিনি নিজে গিয়ে ওয়ার্ড দেখে আসার কথা বলেন এবং কিছুক্ষণ পর পরিবারকে জানান, হাসপাতালে কোনো শয্যা খালি নেই।
এরপর এনায়েত করিম তাদের কাটাবন (Katabon) এলাকার ‘হোম কেয়ার হাসপাতাল’ নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরিবারকে তিনি জানান, সেখানে ভর্তি করাতে হলে প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকা খরচ হবে। অসুস্থ শিশুকে নিয়ে ঢাকায় পথঘাট না চেনা পরিবারটি তখন কার্যত তার কথার ওপরই নির্ভর করছিল।
নি’\হত শিশুর বাবা হেলাল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, অন্য হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাদের আগেই সতর্ক করেছিলেন—মিনহাজের মুখের অক্সিজেন মাস্ক দুই মিনিটের জন্যও খোলা যাবে না। তিনি বলেন, “আমরা ওই কর্মচারীকেও বিষয়টি বারবার বলেছিলাম। কিন্তু সে কথা শোনেনি। অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেওয়ার কথা বলে হাসপাতালের ভেতর দিয়েই প্রায় আধা ঘণ্টা মিনহাজকে ঘোরায় সে।”
পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের ২ নম্বর ভবনের গেটে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় তারা বুঝতে পারেন, মিনহাজ আর শ্বাস নিচ্ছে না। এ সময় স্বজনরা কান্নাকাটি শুরু করলে এনায়েত পালানোর চেষ্টা করেন। তবে উপস্থিত লোকজন ও স্বজনরা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং পরে হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পে সোপর্দ করেন।
মিনহাজের মামা মো. রিপন জানান, ডায়রিয়া থেকে শিশুটির কিডনিতে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে তারা কোনো পথ চিনতেন না। যে যেভাবে পরামর্শ দিয়েছে, তারা সেভাবেই কাজ করেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমাদের সাত বছরের শিশুকে এক প্রকার হ’\ত্যা করা হয়েছে। আমরা এর কঠিন শাস্তি দাবি করি।”
শাহবাগ থানা (Shahbagh Police Station)-এর উপ-পরিদর্শক মনমথ হালদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এনায়েত করিম নামের এক সরকারি কর্মচারীকে হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, একটি মুমূর্ষু শিশুকে প্রলুব্ধ করে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশুটির মৃ’\ত্যু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গেছে। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে মিনহাজের মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
