ইরানের পাঠানো সর্বশেষ জবাব প্রত্যাখ্যানের পর এবার দেশটির সঙ্গে চলমান যু’\দ্ধ’\বিরতি নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও ইরানের (Iran) মধ্যে এক মাস ধরে চলা যু’\দ্ধ’\বিরতি এখন ‘বিশাল লাইফ সাপোর্টে’ আছে।
দেশটির স্থানীয় সময় সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, যু’\দ্ধ’\বিরতি এখনো কার্যকর থাকলেও এর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, ওয়াশিংটন আর তেহরানের (Tehran) অবস্থানকে আগের মতো সময় দিতে প্রস্তুত নয়।
ইরানের পাঠানো প্রস্তাবের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “ওরা আমাদের যে আবর্জনাটা পাঠিয়েছে, সেটা আমি পড়ে শেষও করিনি।” তিনি অভিযোগ করেন, ইরান যতটুকু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, সেটি সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না তেহরান।
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ইরানের কখনোই পারমাণবিক অ’\স্ত্র থাকবে না। এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি আবারও ইঙ্গিত দেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো কঠোর এবং আপসহীন।
তেহরানের সরকারঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে প্রস্তাব দিয়েছে, ইরানের পাঠানো ১৪ দফা প্রস্তাবে সেটি মেনে নেওয়ার কোনো ইঙ্গিত নেই। অর্থাৎ, আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও দুই পক্ষের অবস্থানের ফারাক এখনো গভীর।
এদিকে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ (Mohammad Ghalibaf) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো আগ্রা’\সনের জবাব দিতে এবং শিক্ষা দিতে প্রস্তুত।
ফলে ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা কিছুটা স্তিমিত মনে হলেও বারবার তা নতুন করে জ্বলে উঠছে। আবারও দেখা দিচ্ছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যু’\দ্ধ’\বিরতির মধ্যেও ইরানি হা’\মলার কারণে অঞ্চলটিতে যু’\দ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
মঙ্গলবার ট্রাম্প তার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দুটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিগুলোতে ইরানের সামরিক সম্পদের ওপর হা’\মলার দৃশ্য দেখা যায়।
এসব ছবির মধ্যে রয়েছে ইরানের পতাকাবাহী একটি বি’\স্ফো’\রিত বিমান এবং সমুদ্রে আক্রান্ত হওয়া কয়েকটি ইরানি দ্রুতগামী নৌযান। একটি ছবির ক্যাপশনে ট্রাম্প লিখেছেন, “বিদায় দ্রুতগামী নৌযান।” আরেক ছবিতে তিনি লিখেছেন, “লেজার বিং, বিং, উধাও।”
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই বলেন, আবারও হা’\মলার শিকার হলে ইরান ৯০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারে। তার এই বক্তব্য পারমাণবিক উত্তেজনাকে আরও তীব্র ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ. আর. ম্যাকমাস্টার ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান আবারও শুরু হতে পারে।
তিনি বলেন, “আমার মনে হয় ইরানের শাসকগোষ্ঠী আরও একটি বিরাট ভুল করছে, তারা আরেকটি বিকল্প পথ এড়িয়ে যাচ্ছে।”
সূত্রের বরাতে সিএনএন (CNN) জানিয়েছে, যু’\দ্ধ শেষ করার আলোচনায় ইরান যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে, তা নিয়ে ট্রাম্প ক্রমশ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন।
ট্রাম্পের কিছু সহযোগী বলছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর তুলনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলোর ভাষ্য, হরমুজ প্রণালি টানা বন্ধ থাকায় ট্রাম্প অধৈর্য হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে ইরানি নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজন তেহরানকে পারমাণবিক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য ছাড় দিতে বাধা দিচ্ছে বলেও মনে করছেন ট্রাম্প।


