গণঅধিকার পরিষদ (Gono Odhikar Parishad)-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন (Muhammad Rashed Khan) জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি (NCP)-এর নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (Nasiruddin Patwary)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তার পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, “গাঁজা সেবন না করলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হওয়া যায় না।” একই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami)-কে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করলেও এখন সেই দলের সঙ্গেই রাজনৈতিক সখ্য গড়ে তুলে বিএনপির সমালোচনা করছেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অতীতে জামায়াতে ইসলামীকে “ভারতের এক্সটেনশন”, “মুনাফেকের দল” এবং “ধর্মের নামে চেতনার ব্যবসায়ী” বলেছিলেন। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, পাটওয়ারী একসময় বলেছিলেন যে জামায়াতের রাজনৈতিক দর্শন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মানচিত্র ও জাতীয় চেতনার পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, “একটা দল সম্পর্কে এতোকিছু বলার পরে আবার সেই দল থেকে আসন নিয়ে নির্বাচন করা, এটা একমাত্র গাঁজা সেবন করলেই সম্ভব!” একই সঙ্গে এনসিপির উদ্দেশে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, দলটির উচিত দ্রুত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর “ডোপ টেস্ট ও চিকিৎসা” করানো।
রাশেদ খাঁন তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত নিকোটিন গ্রহণের প্রতিক্রিয়ায় পাটওয়ারী “আবোলতাবোল” কথা বলছেন বলেও তার ধারণা। পাশাপাশি তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে লেখেন, ভবিষ্যতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আবার রাজনৈতিক অবস্থান বদলে এনসিপিকেও সমালোচনা করতে পারেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি দাবি করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বর্তমানে জামায়াতপন্থী অবস্থান নিয়েছেন এবং বিভিন্ন পডকাস্টে নিজেকে শিবিরের “সাথী” বলেও পরিচয় দিচ্ছেন। তবে নিজের ছাত্রজীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন প্রশ্ন তোলেন, “একজন লোক শিবির থেকে বাম হয় কিভাবে?”
উল্লেখ্য, রাশেদ খাঁনের এই পোস্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে রাজনৈতিক হতাশার বহিঃপ্রকাশ বলছেন, আবার কেউ দেখছেন চলমান রাজনৈতিক মেরুকরণের নতুন উদাহরণ হিসেবে।


