১৯৩০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২২টি বিশ্বকাপের ইতিহাস বিশ্লেষণে তৈরি হয়েছে ফুটবলের সর্বকালের একটি সম্মিলিত র্যাঙ্কিং। এই দীর্ঘ সময়ের বিশ্বকাপ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মূল পর্বে এখন পর্যন্ত ৮০টি দেশ অংশ নিয়েছে। জয়ের জন্য ৩ পয়েন্ট এবং ড্রয়ের জন্য ১ পয়েন্ট নির্ধারণ করে তৈরি এই র্যাঙ্কিংয়ে দলগুলোর পারফরম্যান্সকে মোট পয়েন্ট, গোল ব্যবধান এবং মোট গোলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
এই ঐতিহাসিক হিসাব অনুযায়ী শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিল (Brazil)। ১৯৩০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া একমাত্র দল হিসেবে ব্রাজিল এখনো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধারাবাহিক ও সফল দল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ‘সেলেসাও’রা ১১৪ ম্যাচে ২৪৭ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। তাদের গোলসংখ্যা ২৩৭ এবং গোল ব্যবধান +১২৯।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি (Germany)। পশ্চিম জার্মানি ও একীভূত জার্মানির রেকর্ড মিলিয়ে ২০টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তারা ১১২ ম্যাচে ২২৫ পয়েন্ট অর্জন করেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ এবং ২০১৪ সালে শিরোপা জেতে। পাশাপাশি তারা মোট আটবার ফাইনাল খেলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে ধারাবাহিক শক্তিশালী দলের পরিচয় গড়ে তুলেছে।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা (Argentina)। ৮৮ ম্যাচে ১৫৮ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার এই অবস্থানে আছে ‘আলবিসেলেস্তেরা’। ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ী আর্জেন্টিনা মোট ছয়বার ফাইনাল খেলেছে। ১৯৩০ সালে অভিষেকের পর কিছু আসর মিস করলেও ১৯৭৪ থেকে ২০২২ পর্যন্ত তারা নিয়মিত বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে।
চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইতালি (Italy)। ৮৩ ম্যাচে ১৫৬ পয়েন্ট পাওয়া চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ এবং ২০০৬ সালে ট্রফি জেতে। তবে কয়েকটি বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারায় র্যাঙ্কিংয়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে দলটি, যদিও আর্জেন্টিনার চেয়ে মাত্র ২ পয়েন্টে পিছিয়ে আছে তারা।
পঞ্চম স্থানে রয়েছে ফ্রান্স (France)। ৭৩ ম্যাচে ১৩১ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় রয়েছে ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয়ে তারা আরও দুইবার শিরোপার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই র্যাঙ্কিং কেবল জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়; বরং দীর্ঘ সময়ের ধারাবাহিকতা, অংশগ্রহণ এবং বড় মঞ্চে পারফরম্যান্সের একটি সামগ্রিক প্রতিচ্ছবি।


