জাতীয় দলের জার্সিতে সাকিব আল হাসান (Shakib Al Hasan) সর্বশেষ মাঠে নেমেছিলেন ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে। কানপুরে ভারত (India)–এর বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে খেলেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্ব অলরাউন্ডার।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানপরবর্তী আওয়ামী লীগ (Awami League) সরকারের পতনের পর আর দেশে ফেরা হয়নি এই ক্রিকেট অলরাউন্ডারের। দেশের বাইরে পাকিস্তান ও ভারতের মাটিতে সে বছরই দুটি টেস্ট সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ (Bangladesh)। পরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়ে অবসর নিতে চেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু নানা জটিলতায় সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে রওনা দিয়ে দুবাই পর্যন্ত এসেও শেষ পর্যন্ত ফিরে যেতে হয়েছিল সাকিব আল হাসানকে। প্রায় দুই বছর হতে চলল, তিনি জাতীয় দলের বাইরে। জাতীয় দলের খেলা মিস করছেন কি না—এমন প্রশ্নে সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতির কথা জানান বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এই সাবেক অধিনায়ক। একই সঙ্গে দেশে ফেরা নিয়েও কথা বলেন তিনি।
সাকিব বলেন, ‘হ্যাঁ, সেটা তো যে কেউই মিস করবে। ধরুন এই যে মুশফিক (Mushfiq) ভাই বা আরও আগের হাবিবুল বাশার (Habibul Bashar) ভাইয়ের কথা যদি বলি—যারা জাতীয় দলে খেলেছেন, দল থেকে বেরিয়ে প্রত্যেকেই সেটা মিস করেন—এটাই স্বাভাবিক। এটি একটি বিশেষ জায়গা।’
সাধারণত একজন খেলোয়াড় অবসর নেন, এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় দল থেকে সরে যান। কিন্তু সাকিব আল হাসানের পরিস্থিতি সেই প্রচলিত ধারার বাইরে। তিনি খেলতে পারছেন না, দেশে ফিরতেও পারছেন না—দুটোর পেছনেই মূলত রাজনৈতিক বাস্তবতা কাজ করছে। দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা হয়েও অবসর না নিয়েই জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হচ্ছে তাকে। স্বাভাবিকভাবেই এমন অবস্থায় আফসোসের জায়গা তৈরি হওয়ার কথা।
তবে সাকিবের কথায় ভিন্ন সুরও আছে। তিনি বলেন, ‘সেটা তো অবশ্যই। তবে আফসোস কখনো লাগেনি। টেলিভিশনে দলের খেলা দেখেও কখনো মনে হয় না যে আমি তো খেলছি না! কয়েকবার সাসপেন্ড-টাসপেন্ড হয়ে অভ্যাস হয়ে গেছে মনে হয় (হাসি)। ওইটা মিস করি না। হ্যাঁ, খেলতে পারছি না, এটার কষ্ট তো আছেই।’
এর আগে বিসিবির পক্ষ থেকে সাকিব আল হাসানকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা শোনা গিয়েছিল। তবে সেই প্রক্রিয়া কত দূর এগিয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য সামনে আসেনি। এবার সেই অবস্থান কিছুটা পরিষ্কার করেছেন সাকিব নিজেই। তিনি জানিয়েছেন, আগের অবস্থায় আর বিষয়টি নেই। আইনগতভাবে যা করা সম্ভব, তিনি তা করছেন। তার আশা, অন্তত একটি বিষয় খুব তাড়াতাড়ি সমাধান হয়ে যাবে। খুবই তাড়াতাড়ি। এরপর আরও দুটি কেস থাকবে বলেও জানান তিনি।
